
পীর হাবিবুর রহমান : গোটা পৃথিবী করোনার ভয়াবহতায় নিস্তব্ধ অচল। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর মিছিল এতো দীর্ঘ যে শক্তিশালী রাষ্ট্রও অসহায়। চিকিৎসা সেবাদান ও লাশ দাফনের গভীর সংকটে। বাঁচার লড়াইয়ে পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রনায়করাই তার জনগনের জীবন রক্ষায় লকডাউন, জরুরী অবস্হা ঘোষনা সহ বিভিন্ন পদক্ষেপই নেননি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
পৃথিবীর তাবৎ চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষনাগার তৎপর করোনার ভ্যাকসিন তৈরিতে। ঘুম তাদেরও হারাম।উদ্বিগ্ন মানবজাতি ভয় আর আতংকের মুখে এক মোহনায় যেমন মিলিত বাঁচার লড়াইয়ে তেমনি রাষ্ট্রনায়করাও মানবতার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ।বিলগেটস বলেছেন,যতো বিলিয়ন লাগে ভ্যাকসিন আবিস্কারে দেবেন। তিনিসহ পৃথিবীর বিত্তবানরা সাহয্যের হাত বাড়িয়েছেন।মানুষ তার সর্বশক্তি নিয়ে আজ মানুষের পাশে।
আমাদের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনার ভয়াবহতা থেকে জনগনের জীবন রক্ষার লড়াই শুরু হয়ে গেছে।প্রধানমন্ত্রী অনেক নির্দেশনা দিয়েছেন। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষনে বলেছিলেন জনগনের পাশে আছেন,মনিটর করছেন।তিনি কথা রেখে সকল দূর্যোগের মতোন দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী জনগনের সামনে পদক্ষেপ সহ বেরিয়ে আসার আগে ক’জন মন্ত্রীর অতিকথন,দায়িত্বহীন যেমন খুশি দেয়া বক্তব্যে মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছিলেন।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লড়াইয়ে মানুষ সেসব ভুলে গেছে,তারাও মুখে কুলুপ দিয়েছেন।গোটাদেশ এখন লড়ছে।
রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গনভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। গত ১১বছরে মিডিয়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল জায়গায় থাকা একদল পেশাদার অপেশাদার সরকারি সুবিধাবভোগী নির্লজ্জ, বেহাপনায় সাংবাদিকতা পেশার মান মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়েছেন। প্রশ্ন রেখে তারা ম্যাজিক ভাষণে নির্লজ্জের তোষামোদিতে তেলের নহর বইয়ে দিয়ে বিতর্কিতই হননি, প্রধানমন্ত্রীকেও বিব্রত করেছেন।গণমাধ্যমের ইমেজ শেষ তলানিতে নিয়েছেন।
এ নিয়ে বারবার কথা উঠলেও তারা শরম পাননি।তাদের কান্ডকীর্তির মুখে পেশাদার রিপোর্টাররা প্রশ্ন করতেও পারেননা।মাথা নীচু করে বসে থাকেন।
রোববার বিষাদগ্রস্ত পৃথিবীর এই কঠিন সময়ে দেশবাসীর উদ্বেগ উৎকন্ঠার মুখে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে আপনারা অতীতে যা করার অনেক করেছেন, এবার চুপ থাকেন।আর গেলেই তেলের নহর বইয়ে দেবেন মনে হলে যাবেন না প্লিজ।মানুষের মন মেজাজ কারোর এখন ভালো নেই। এখন তেলবাজি দোষারোপ কোনোটার সময় নয়। সহ্য করারও মন নেই মানুষের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নের জবাব দিতে প্রস্তুত। রোববারের সংবাদ সম্মেলনে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য বিটের রিপোর্টারদের পাঠান। তারা সরাসরি প্রশ্ন করবে। আপনারা যাবেননা বন্ধুরা, গেলেও দাঁড়াবেন না। খাসলত বদলাতে পারবেন না, দাঁড়ালেই ফট করে ম্যাজিক তেলভাষণ শুরু করবেন। প্রধানমন্ত্রী বিব্রত বিরক্ত হবেন আর আপনাদের ভাঁড়ামিতে মানুষ হবে বিক্ষুব্ধ।আপনারা প্রশংসার স্তুতি বয়ান কলামে লিখুন,টকশোতে বলুন। সংবাদ সম্মেলনে নয়।
চেনাদের নয়, প্রশ্ন উন্মুক্ত রাখুন প্রেস সচিব সাহেব। (ফেসবুক স্ট্যাটাস)
লেথক: নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন



