উপমহাদেশশিরোনাম

করোনাভাইরাস: নাগরিকদের বিনামূল্যে খাবার, অর্থ সহায়তা দিচ্ছে কেরালা

এক মাস বিনামূল্যে সব নাগরিককে বিনামূল্যে খাবার ও অর্থ সহায়তা দেবে ভারতের কেরালা রাজ্যের সরকার। বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। খবর: গণশক্তি।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিকে যে কেরালা সরকার শুধু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংকট হিসাবে দেখছে না এ ঘোষণায় তা স্পষ্ট হয়েছে। সরকারের ঘোষণায় এও স্পষ্ট, প্রয়োজনে সব স্তব্ধ হলে সাধারণ মানুষ সঙ্কটে পড়বেন না। গণশক্তি জানায়, কেরালার রাজধানী ত্রিবনন্তপুরমে বৃহস্পতিবার করোনাভাইরাস সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। সেখানে তিনি ২০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেন। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ সেখানকার স্বাস্থ্যখাতসহ ঋণ মওকুফে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া সামাজিক কল্যাণ ভাতা, রেগা, ভর্তুকিযুক্ত খাদ্য, কর ছাড়, এরিয়ারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরাদ্দ করা হয়েছে এ প্যাকেজে।
সামাজিক সুরক্ষা বাবদ যেসব ভাতা এপ্রিল মাস থেকে দেওয়ার কথা ছিল রাজ্য সরকারের, তা এই মাস থেকেই দেওয়া হবে। দু’মাসের আগাম পেনশন দেওয়া হবে। যারা কোনোরকম ভাতার আওতাভুক্ত নন, তাদের জন্যও হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। পাঁচ শ কোটির একটি ‘হেল্থ প্যাকেজ’ও এ দিন ঘোষণা করেন কেরালা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন বলেন, ‘‘এই মহামারীর জেরে সাধারণ জীবনযাপন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। আমাদের রাজ্য বিশাল অঙ্কের এক ক্ষতির মুখে। অর্থনীতিকে যা দুর্বল করে দিচ্ছে। ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে বাঁচিয়ে তুলতেই এই প্যাকেজের ঘোষণা।’’
বিজয়ন বলেন, ‘‘দারিদ্রসীমার ওপরে থাকা পরিবারগুলিও ১০ কেজি করে খাদ্যশস্য পাবে। এর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’’
তিনি জানান, কুদুম্বশ্রী’র (নারী সমবায়) জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার কোটি। কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করার যে প্রকল্প তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে দু’হাজার কোটি। রাজ্যে কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা খাতে ভাতা পেয়ে থাকেন। সেই ভাতাও দু’মাসের আগাম হিসাবে দেওয়া হবে এমাসেই।
বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কেরালায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ জন। এ দিন কাসারগড়ের এক বাসিন্দার শরীরে এ ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। বিজয়ন জানান, ‘‘৩১ হাজার ১৭৩ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৩৭ জন হাসপাতালে।’’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button