আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

সিরিয়ায় ফের তুর্কি সেনা নিহত, ৩ নেতার সঙ্গে বসছেন এরদোয়ান

সিরিয়ার ইদলিবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বাহিনীর গোলাবর্ষণে এক তুর্কি সেনা নিহত হয়েছেন। জবাবে সরকারি বাহিনীর ২১ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তুরস্কের সেনাবাহিনী।
এদিকে, ইদলিব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ তিন নেতার সঙ্গে মার্চে বৈঠক করতে যাচ্ছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান।
আগামী ৫ মার্চে ওই বৈঠকে এরদোয়ান ও পুতিন ছাড়াও থাকবেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
আলজাজিরা জানায়, শনিবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান নিজেই এই বৈঠকের কথা জানান। এর আগে শুক্রবার তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ইদলিব পরিস্থিতি নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেন।
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর গোলাবর্ষণে এক তুর্কি সেনা নিহত হন। নিজের ট্যাংকে থাকা অবস্থায় আহত ওই সেনাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এনিয়ে সিরীয় সরকারি বাহিনীর হামলায় ইদলিবে ১৬ তুর্কি সেনা নিহত হলো।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার ইদলিবকে ‘ডি-এস্কেলেশন জোন’ ঘোষণা করে গত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে চুক্তি সই করে রাশিয়া ও তুরস্ক। এই চুক্তি অনুযায়ী ইদলিবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া নিষিদ্ধ। চুক্তি কার্যকরের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে সেখানে বেশকিছু পোস্ট বসায় তুরস্ক।
কিন্তু সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১২ জানুয়ারি থেকে ব্যাপক হামলায় চালিয়ে ইদলিবের প্রায় অর্ধেক দখল করে নেয় রাশিয়া ও সিরীয় সরকারি বাহিনী। এতে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। বাস্তুচ্যুত হয় কয়েক লাখ সিরীয়।
এমনিতে লাখ লাখ সিরীয় শরণার্থীর ভারে ন্যুব্জ তুরস্ক। দেশটির জনগণের মাঝে তাদের নিয়ে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনপ্রিয়তায় টান পড়েছে এরদোয়ানের একে পার্টির। ফলে নতুন করে কয়েক লাখ সিরীয় শরণার্থী ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যায় তুরস্ক।
আলজাজিরা জানায়, তুরস্ক চুক্তি অনুযায়ী ইদলিবের নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম না করতে রুশ ও সিরীয় সরকারি বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু এই আহ্বান উপেক্ষা করে অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে রুশ ও সিরীয় বাহিনী। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ‘আস্তানা শান্তি প্রক্রিয়া’।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button