
গতকালের পর আজও ফের উত্তপ্ত রাজধানী শহর। জুম্মার নামাজের পর জামে মসজিদের বাইরে বিশাল বিক্ষোভ। ভীম আর্মির স্লোগানে আরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রশেখর আজাদকে আটক করেও ধরে রাখতে পারেনি পুলিশ। তিনি নাগাল ফসকে বেরিয়ে যান। এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট, এই প্রতিবাদের আগুন সহজেই নিভিয়ে ফেলা যাবে না।
শুক্রবার ভীম আর্মি জামে মসজিদ থেকে যন্তরমন্তর পর্যন্ত CAA বিরোধী মিছিলের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে পুলিশ সেই মিছিলের অনুমতি দেয়নি। তা সত্ত্বেও অশান্তি হতে পারে, এই আশঙ্কায় আজ সকাল থেকেই জামে মসজিদ চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছিল বাড়তি পুলিশ। দুপুরে নামাজপাঠ শেষ হতেই সেখানে জমায়েত হন প্রচুর মানুষ। তাঁদের সকলের হাতে প্ল্যাকার্ড, হোর্ডিং। সকলের কবজিতে কালো ব্যাজ বাঁধা ছিল। বোঝা যায়, বিক্ষোভকারীরা সকলে ভীম আর্মির সদস্য। জমায়েত থেকে স্লোগান ওঠে–‘জয় ভীম’।
সামনের সারিতেই ছিলেন ভীম আর্মির প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রশেখ আজাদ। তাঁর হাতে ছিল সংবিধানের একটি প্রতিলিপি। জামে মসজিদের দিকে এগোতেই তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে আটক করে পুলিশ। কিন্তু কিছুক্ষণ পর পুলিশের নাগাল ফসকে বেরিয়ে যান তিনি। পরে চন্দ্রশেখর আজাদ টুইট করে জানান, ”আমার আটক হওয়ার খবরটি ভুয়ো, গুরুত্ব দেবেন না। আমি জামে মসজিদের বিক্ষোভে আছি।” এরপরই তিনি সংবিধানের প্রতিলিপিটি জোরে জোরে পড়তে থাকেন এবং ব্যাখ্যা করতে থাকেন কীভাবে অসাংবিধানিক উপায়ে দেশজুড়ে জারি হতে চলেছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন। এত পুলিশ বাহিনী, কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থেকে কীভাবে চন্দ্রশেখর আজাদ পালিয়ে গেলেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

এরপর পুলিশের সমস্ত বাধা পেরিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা জামে মসজিদের ভিতরে ঢুকে পড়েন। মসজিদের অভ্যন্তর গমগম করতে থাকে চন্দ্রশেখর আজাদের তোলা স্লোগান–‘জয় ভীম’এ। অশান্তির জেরে গতকালের মতো আজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দিল্লির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন।
অন্যদিকে, লাল কেল্লা চত্বরেও CAA বিরোধী বিক্ষোভে শামিল হয়েছে কংগ্রেস। এই কর্মসূচি ঘিরে আগে থেকেই ওই চত্বরে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। তা অমান্য করেই কংগ্রেস নেত্রী শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসের মিছিল এগিয়ে যায়। সেখান থেকে আটক করা হয় শর্মিষ্ঠাকে। যুব কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বাড়ির সামনেও। সবমিলিয়ে, আজও CAA বিরোধী একাধিক প্রতিবাদে কর্মসূচিতে ফুটছে রাজধানী শহর।
সংবাদ প্রতিদিন




