সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ : বহিরাগতদের হামলার পর এবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকির অভিযোগ উঠেছে। গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক তাদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলছেন। ওই শিক্ষকরা উপাচার্য সমর্থিত। আন্দোলন থেকে সরে না আসলে তাদের সার্টিফিকেট আটকে রাখাসহ ক্লাস ও পরীক্ষার সময় ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন তারা।
হামলার পর অজানা আতঙ্কে আর হুমকির মুখে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এরকম পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও কামনা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে বহিষ্কার করা হলে এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের সমালোচনার মুখে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ভিসির পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন।
আন্দোলন থামাতে কর্তৃপক্ষ শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ আসতে থাকে, শুক্রবার রাত থেকে হলের খাবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে হলে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় যাওয়ার পথে বহিরাগতরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেছে। এতে ২০ শিক্ষার্থী আতে হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নিয়ে শিক্ষকরা আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছেন না। এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই।



