তানিয়া এবং রিয়াদ উদ্দিন উভয়েই বাংলাদেশ বিমানের ট্রাফিক হেলপার। বিদেশ ফেরত যেসব যাত্রী হুইলচেয়ার রিকুইজিশন দেন তাদেরকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে এয়ারক্রাফট থেকে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া তাদের কাজ। হুইলচেয়ার সার্ভিস চার্জ টিকেটের মূল্যের সাথে রেখে দেওয়া হয়। ফলে যারা হুইলচেয়ার ঠেলেন তাদেরকে আলাদা করে পারিশ্রমিক দেয়ার দরকার হয় না।
প্রথমে তানিয়ার গল্প বলি। এক বয়স্ক নারী যাত্রীকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে তিনি ক্যানপি পর্যন্ত নিয়ে যান এবং তাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে হুইল চেয়ার গুটিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এসময় ঐ যাত্রীকে নিতে আসা ভদ্রলোক তানিয়াকে পিছন থেকে ডাকেন। তানিয়া দাঁড়ালে ঐ ভদ্রলোক তার মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে তানিয়াকে দিতে যাচ্ছেন – সিসি ক্যামেরায় সরাসরি এতটুকু দেখে তানিয়াকে ডেকে আনা হয়। তানিয়া আত্মবিশ্বাসী কন্ঠে বলেন, “আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিল। আমি তো নেইনি। আপনি ভিডিও দেখতে পারেন।” তানিয়ার দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিসি ক্যামেরার এরপর রেকর্ডেড ফুটেজ দেখা হল। নিশ্চিত হওয়া গেল যে ভদ্রলোক টাকা সাধলেও তানিয়া তা নেননি।
এজন্য তানিয়াকে ডেকে একটি বই পুরস্কার হিসাবে দেয়া হয়েছে। এর সাথে দেয়া হয়েছে একটি প্রশংসাপত্র।
এবার রিয়াদ উদ্দিনের কথা বলি। তিনি এক যাত্রীর লাগেজ বেল্ট থেকে ট্রলিতে উঠিয়ে ট্রলি ঠেলে ক্যানপিতে নিয়ে যাচ্ছেন। যাত্রী বয়সে তরুণ এবং সুস্থ। তিনি হুইলচেয়ারে উপবিষ্ট নন। ক্যানপিতে যাওয়ার পর রিয়াদ উদ্দিন ঐ যাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। হুইলচেয়ার ঠেলার কাজ না থাকলেও ঐ যাত্রীর লাগেজ ঠেলে বকশিস নেয়ার অপরাধে রিয়াদ উদ্দিনকে জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে বই দেয়া হয়েছে পড়ার জন্য। সাত দিন পর পঠিত বইয়ের উপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিবেন তিনি। এটাও তার শাস্তির অংশ।
বিমানবন্দরে তানিয়াদের সংখ্যা কম। রিয়াদ উদ্দিনদের সংখ্যা অনেক বেশি। নিজের কাজ ফেলে যাত্রীদের লাগেজ ঠেলে ও টাকা নিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ শাস্তি পাচ্ছেন।
তথ্য সুত্র : বাংলা ।
Courtesy: Magistrates All Airports of Bangladesh




