শিরোনাম

সিংগাইরে ৩টি সড়কের বেহাল দশা : দুর্ভোগ চরমে

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার প্রধান তিনটি সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কগুলোর এমন বেহালাদশা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সড়কগুলো হলো- বাস্তা-মানিকনগর সড়ক, সিংগাইর-সিরাজপুর সড়ক ও সিংগাইর-জামশা সড়ক। এসব সড়কের পিচ ঢালাই ও ইট-পাথর উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত আর খানাখন্দ।
এক গর্ত থেকে বাঁচতে আরেক গর্তে গিয়ে আটকে যাচ্ছে ছোট বড় যানবাহন। অনেক সময় সড়কের ওপর যানবাহন বিকল হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। তখন জনভোগান্তির সীমা থাকে না। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে জানমালের ক্ষতি হয়। এলাকাবাসী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তিনটি পুননির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪/৫ বছর আগে সড়ক তিনটি সংস্কার কাজ করা হয়। কাজ শেষ না হতেই সড়কে আবার ভাঙন শুরু হয়। বর্তমান পিচ ঢালাই ও ইট-পাথর উঠে গিয়ে প্রতিটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো দিয়ে সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দারা জেলা শহর ও ঢাকায় যাতায়াত করে।
বৃষ্টি হলে সড়কের কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভাঙাচুরা সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা ও মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার সময় দুর্ভোগের সীমা থাকে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ও ইটভাটা মালিক সমিতি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ইট, বালু ফেলে সড়কগুলো কোনোমতে সচল রেখেছে।
ট্রাক চালক আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়কের অবস্থা খুব নাজুক। ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় সময় গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। মানুষ মারা যায়। সড়কগুলো জরুরিভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।’
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আলতাফ হোসেন খান জানান, ‘বৃষ্টির সময় সড়কগুলো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। তখন চরম দুর্ভোগের শিকার হন স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। ভাঙ্গা সড়কগুলো মেরামত করা প্রয়োজন।’
উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ রুবাইয়াত জামান বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইম্প্রভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় বাস্তা-মানিকনগর সড়কটি পুননির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সিংগাইর-সিরাজপুর ও সিংগাইর-জামশা সড়কের সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’
সিংগাইর উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান বলেন, ‘আমি নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কগুলো পুননির্মাণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেবো।’
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button