সানি সানোয়ার :টয়লেটের জন্য লেটেস্ট মডেলের একটি কমোড কিনেছি, কিন্তু ‘অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি’ কেনা হয়নি। অনেক যাচাই-বাছাই করে অ্যাপল স্টোর থেকে একটি আইফোন নিয়েছি, কিন্তু ঘরের ‘চুলাটি’ যাচ্ছেতাই।
ফেসবুকের হ্যাকিং ঠেকাতে প্রাইভেসি সেটিং সেট করা শিখেছি, তবে ‘গ্যাস সিলিন্ডারের চাবি’ কিভাবে বন্ধ করতে হয় তা শিখিনি।
ব্র্যান্ডেড টিভি কিংবা ফ্রিজ সরাসরি শো-রুম থেকে কিনলেও, ঘরের ওয়ারিং করার সময় ‘ইলেক্ট্রিক তার’ কোথা থেকে কেনা হয়েছে সে খবর রাখিনি।
বাড়ির পাশের ডাস্টবিন অন্যত্র সরানোর জন্য অনেক শ্রম দিয়েছি, কিন্তু ঘরের পাশের কেমিক্যাল গুদামটি গোনায় ধরিনি।
মেক-মডেল নিয়ে অনেক গবেষণা করে উচ্চমূল্যে গাড়ি কিনেছি, কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার লাগানোর সময় সস্তা খুঁজেছি।
আপদকালীন খরচার জন্য কিছু অর্থ-সম্পদ গচ্ছিত রেখেছি, কিন্ত আপদকালীন সময়ের জন্য বিল্ডিংয়ে কোন ফায়ার এক্সিট রাখিনি।
………………………………………..
কিন্তু যারা ভাড়াটিয়া, যারা দোকানের কর্মচারি, যারা অতিথি তাদের ভুল নগণ্য। শুধুই পোড়াকপাল! কিংবা খুন।
এই মৃত্যুর দায় অনেকের। আশা করি এই দায় নিয়ে দায়ীরা কোনদিন বার-বি-কিউ খেতে গেলে আমাকেই মনে পরবে। তখন হয়তো এরকম অমানবিক বীভৎস মৃত্যু রুখে দিতে কিছু একটা করবে।
মাটি আর এতটা পোড়া, বীভৎস, ক্ষতবিক্ষত শরীর ধারণ করতে পারছে না! মাটি কাঁদছে আর মাফ চাইছে।
লেখক : পুলিশ কর্মকর্তা (ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)




