অর্থনৈতিক সংবাদ

উন্নয়নের লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তা বাড়াতে হবে

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আতিউর রহমান দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তরুণরাই দেশের সম্পদ। পৃথিবীর ইতিহাসে পরিবর্তনের সকল ধারায় তরুণদের ভুমিকা অনস্বীকার্য। এমনকি বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেয়ার জন্য তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। তরুণরাই পারে দেশের উন্নতিতে অবদান রাখতে। তাই দেশের উন্নতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য তরুণ উদ্যোক্তা বাড়াতে হবে।’
শনিবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ওয়ার্ল্ড ‘লিংকআপ’ আয়োজিত ‘তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আতিউর রহমান বলেন, ‘এইচএসবিসি রিপোর্ট (২০১৮) অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২০ সাল নাগাদ ২৬তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হবে। বর্তমানে তার অবস্থান ৪২তম। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে বংলাদেশ এ অবস্থান অর্জন করবে। বাংলাদেশ বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রেখে ২০৩০ সাল নাগাদ ৭০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। আমরা স্বপ্ন দেখছি ততদিনে প্রবৃদ্ধির হার আরো দ্রুততর হবে এবং শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর ২০টি বড় অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ।’
‘আমাদের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়ণ করতে হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাজনীতি, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি, জনসংখ্যা, অবকাঠামো, তরুণদের উদ্যোমসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে কুশলী নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ২০৩০ সালে উচ্চ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোকে সময়মতো বাস্তবায়ন করা, শিক্ষিত তরুণদের দক্ষ ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, খুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বড় কর্পোরেট উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সম্পূরক সম্পর্কে সংযুক্ত রাখা, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগগুলোর বহুমুখী ও বহুদেশাভিমুখী করা, আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি করা, ব্যক্তি খাতকে সবুজ প্রবৃদ্ধির খুঁটি হিসেবে উৎসাহিত করা, সবুজ অর্থায়নের ক্ষেত্রকে প্রসারিত করা, স্মার্ট ও সবুজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের মতো মৌল নীতি সংস্কারে নেতৃত্বকে নিরস্তর মনোযোগী থাকতে হবে।’
আতিউর রহমান আরো বলেন, ‘তরুণরাই বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। সালাম বরকতের মত তরুণদের রক্তেই জন্মেছে বাংলাদেশ। তবে আজকের তরুণদেরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। এই তারুণ্যকে কাজে লাগাতে জীবনমূখী শিক্ষা দিতে হবে। গত ১০ বছরে দেশের যে অর্থনৈতিক পরিবর্তন পরিবর্তন এসেছে তা বিস্ময়কর। ১৯৭২ সালে অর্থনীতির আকার ছিল ৮ বিলিয়ন ডলার। দরিদ্র ছিল ৫০ শতাংশ মাথাপিছু ৮৯ ডলার। আমরা দারিদ্র দূর করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি। সুন্দর সমাজ গড়তে চেয়েছি। এই তারুণ্যকে কাজে লাগাতে হলে তাদের শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। দেশের অর্থনীতির নেতৃত্ব দেবে তরুণরা। বাংলাদেশ আগামীতে আরো এগিয়ে যাবে।’
টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্বের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন হলো আজকে আমরা যা করছি আগামী দিনের যারা নাগরিক হবে তাদের জীবনে যেন কোন সমস্যা তৈরি না হয়। এমনভাবে পণ্য ব্যবহার করব, সম্পদ ব্যবহার করব, যাতে আমাদের সন্তানরা সেই সম্পদ থেকে বঞ্চিত না হয়।’
ওয়ার্ল্ড লিংকআপ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাসুম বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে এবং এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্যানেলের সমন্বয়ক হিয়া মুবাশ্বিরা ও বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জুয়েল কিবরিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা, অধ্যাপক ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সুত্র : বাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button