রাজনীতিশিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইসিতে বিএনপির নালিশ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে সরকারি দলের পক্ষে ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।
মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই চিঠি দেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, গত ৮ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন থেকে সকল রিটার্নিং অফিসারকে ঢাকায় ডেকে পাঠানো হয়। পরে ১৩ নভেম্বর কমিশনে তাদের নির্বাচন বিষয়ে ব্রিফ করা হয়।
বিএনপির অভিযোগ, ইসি থেকে যখন রিটার্নিং কর্মকর্তারা স্ব স্ব জায়গায় ফেরত যাচ্ছিলেন, তখন জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তলব করা হয়। তখন তারা সেখানে গিয়ে বৈঠক করেন। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানাতে পেরেছি সেখানে আসন্ন নির্বাচনে সরকারি দলের পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের ব্রিফ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসাররা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকার পরও কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তাদের ডেকে পাঠানো হয়। এ ধরনের আচরণ একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিরাট অন্তরায়। এটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের জন্য অশনিসংকেত।
রিটার্নিং অফিসারদের ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের টেলিফোন কললিস্ট যাচাই করে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওইদিনের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে বলেও দাবি করেছে দলটি।
বিএনপির চিঠিতে আরও বলা হয়, ইসির অনুমতি ছাড়া টেলিফোনে রিটার্নিং অফিসারদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে সভা করা আরপিও অধ্যায়-৬ এর আর্টিকেল ৭৩/২বি এর বিধানমতে ‘করাপ্ট প্যাকটিস’, যা শাস্তিযোগ্যে অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
একই চিঠিতে দেশের ৪৫ জেলায় সচিব মর্যাদার কর্মকর্তাদের মেনটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আদেশ বাতিল, প্রশাসনে রদবদলসহ ৯ দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো হলো নির্বাচন কমিশন, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিব এবং পুলিশ সদর দফতরের মাঠ প্রশাসনের বদলি। নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পদে পদায়ন ও বদলিতে সিনিয়রিটি ও মেধাক্রম অনুসরণ করতে হবে। সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারদের প্রত্যাহার করে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পদায়ন। ডিসি-এসপি ও মেট্রোপলিটন এলাকায় উপপুলিশ কমিশনার পদে দুই বছরের বেশি দায়িত্বপালনকারীদের প্রত্যাহার ও বদলি। ডিসি পদায়নে ফিট লিস্ট তৈরি এবং ইউএনও ও ওসিদের বর্তমান কর্মরত জেলার বাইরে বদলি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন বা আছেন এবং মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী/উপদেষ্টাদের পিএস ও এপিএস হিসেবে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পদে পদায়ন না করা। পক্ষপাতমূলত আচরণকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রদান এবং জেলা প্রশাসনে অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উপদেষ্টা (মেনটর) মনোনয়ন সংক্রান্ত আদেশ বাতিল।
চিঠির সঙ্গে ৪৫ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের একটি তালিকাও যুক্ত করা হয়েছে। পূর্বপশ্চিম ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button