ফিটনেসবিহীন বাস শনাক্তে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ

ফিটনেসবিহীন গণপরিবহন শনাক্ত করতে একটি জাতীয় নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কমপক্ষে ১৫ সদস্যের এই কমিটি দ্রুত গঠন করে তিন মাসের মধ্যে ওই জরিপ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
আদালতে রিটের শুনানি করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন একরামুল হক টুটুল।
একইসঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বিভন্ন সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্ঘটনার কারণ এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা সংক্রান্ত চিত্র তুলে গত ৯ জুলাই বিআরটিএর চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ। ওই নোটিশের জবাব না পেয়ে গত সপ্তাহে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রিট শুনানিতে আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন পরিবহনই দায়ী ছিল, যা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি যে দুর্ঘটনায় কলেজ শিক্ষার্থী রাজিবের প্রাণ গেছে এর পেছনেও রয়েছে গণপরিবহনের ফিটনেস না থাকা। গত রোববার যে দুই শিক্ষার্থী প্রাণ গেছে, এ দুর্ঘটনাটি তদন্ত করলেও হয়তো এর পেছনে ফিটনেসবিহীন পরিবহনের বিষয়টি উঠে আসবে। এ ক্ষেত্রে বিআরটিএর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
আইনজীবী তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, যানবাহনের লুকিং গ্লাস, ব্রেক লাইট, সিগন্যাল লাইট ঠিক নেই। এমনকি অনেক যানবাহনের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ফিটনেসও নেই। তিনি বলেন, অথচ সংবিধানে আইনগত অধিকার ছাড়া কাউকে জীবন থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহনের কারণে যেখানে-সেখানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করা হয়েছে।




