ইংল্যান্ডসহ চার দেশের বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি

আগামী ১৪ জুন থেকে রাশিয়ায় শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ ফুটবল। ফাইনাল ১৫ জুলাই। কিন্তু তার মাসকয়েক আগেই এই বিশ্বকাপ ঘিরে বয়কটের ছায়া প্রলম্বিত হচ্ছে। গ্রেট ব্রিটেনের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড এবং জাপান আগামী বিশ্বকাপ বয়কটের আগাম হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে কারণটা রাজনৈতিক।
ইংল্যান্ডের সালিসবেরিতে রাশিয়ান স্পাই ও ডাবল এজেন্ট সের্গেই স্ক্রিপালকে নার্ভ গ্যাস দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ান সিক্রেট সার্ভিসের বিরুদ্ধে। আর এর নেপথ্যে ব্রিটিশ কূটনীতিকরা কাঠগড়ায় তুলতে চাইছেন রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে। সের্গেই স্ক্রিপাল ছিলেন সাবেক রাশিয়ান এজেন্ট। পরে তিনি পালিয়ে ইংল্যান্ডে চলে যান এবং ব্রিটিশ ইনটেলিজেন্স এমআইফাইভের হয়ে ডাবল এজেন্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ব্যাপারটি জানতে পারার পর তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত রাশিয়ান সিক্রেট সার্ভিস। এরপর থেকেই অভিযোগে তোলপাড় ব্রিটিশ সরকারের অন্দরমহল। হোয়াইট হলে নিয়মিত এই নিয়ে মিটিং বসছে। ব্রিটিশ মন্ত্রীরা চাচ্ছেন, ইংল্যান্ড ফুটবল দল বয়কট করুক রাশিয়া বিশ্বকাপ। তাহলে রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে চাপে রাখা যাবে। যদি তিনি নিরুপদ্রবে আগামী বিশ্বকাপ ফুটবলে সফল মঞ্চায়ন করতে সমর্থ হন তাহলে তার গ্লোবাল স্ট্যাচার অনেক বেড়ে যাবে।
ব্রিটিশ সরকার বিকল্প একটা অবস্থাও ভেবে রেখেছে। আর তা হলো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কোনো সরকারী প্রতিনিধিদল যাবে না। এছাড়া খুব অল্প সংখ্যক অফিসিয়াল পাঠানো হবে দলের সাথে। বাকিংহাম প্যালেসের কোনো রাজপরিবারের প্রতিনিধিও মস্কোয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাবেন না। তবে ঘটনা হলো, যদি ইংল্যান্ডের নেতৃত্বে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও পোল্যান্ড আগামী বিশ্বকাপ বয়কট করে তবে ফিফা তাদের পাঁচ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাসপেন্ড করবে। সেক্ষেত্রে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও এই দেশগুলো খেলতে পারবে না। এমনকী, ইংল্যান্ড ২০২০ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও বাতিল হয়ে যাবে।
ফিফার ছয় নম্বর আর্টিকেলে স্পষ্ট লেখা আছে যে, বাছাই এবং মূল পর্বে বাতিল হওয়ার আগে কোনো ম্যাচ না খেললে ফিফা সেই দেশকে কড়া শাস্তি দিতে বাধ্য হবে। যেহেতু এই ডাবল এজেন্ট মার্ডারের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে তাই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে সব রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে এই ব্যাপারে এগিয়ে যেতে চান।



