গণভোট নিয়ে মুখোমুখি স্পেন ও কাতালোনিয়া

স্বাধীনতার পক্ষে বার্সেলোনায় লাখো মানুষের মিছিল
স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভে রবিবারের গণভোটকে সামনে রেখে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে স্প্যানিশ সরকার এবং কাতালোনিয়ার অধিবাসীরা। এর আগে গতকাল রবিবার গণভোটের পক্ষে মিছিলে অংশ নেয় লাখখানেক মানুষ। কাতালোনিয়ার নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এই মিছিলকে স্বাধীনতার পথে প্রথম পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ কাতালোনিয়া। প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ এখানে বসবাস করেন। অঞ্চলটির নিজস্ব ভাষা রয়েছে। স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিত্তশালী প্রদেশটির রাজধানী বার্সেলোনা। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাতালোনিয়ার প্রাদেশিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় সেখানকার স্বাধীনতাকামীরা। নির্বাচনের ওই ফলের মধ্য দিয়ে স্পেন থেকে পৃথক হয়ে নতুন একটি রাষ্ট্র গঠনের পথে এক ধাপ এগিয়ে যায় কাতালানরা। গত জুনে কাতালোনিয়া কর্তৃপক্ষ ১ অক্টোবর গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেয়।
এদিকে স্পেন সরকার এ ধরনের গণভোটকে বেআইনি বলে আখ্যা দেয়। রবিবারের গণভোট ঠেকাতে এরই মধ্যে কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনায় হাজার হাজার পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আর গণভোটের সমর্থকরা তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে ভোটকেন্দ্রগুলো দখল করা শুরু করেছে। এর ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে।
বুধবার স্পেনের একটি আদালত গণভোটের ‘প্রস্তুতি এবং অনুষ্ঠানের জন্য’ সরকারি ভবন ব্যবহার প্রতিরোধের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু গণভোটের সমর্থক কর্মীরা ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এবং শিশুসহ তাদের পিতা-মাতারা শুক্রবার ছুটির পর স্কুল ভবনগুলো শান্তিপূর্ণভাবে দখল করে নেয়। কাতালান সরকার বলেছে, ২৩১৫টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।
এর আগে কাতালোনিয়ার রাজধানী বার্সেলোনার স্পেন স্কোয়ারে গণভোটের পক্ষে চূড়ান্ত মিছিলে অংশ নেয় কয়েক লাখ মানুষ। কাতালানদের একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে এই মিছিলটিকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুগডেমন্ট। গণভোট সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রবিবার ভবিষ্যতের সঙ্গে আমাদের একটি সাক্ষাৎ রয়েছে।’ বিবিসি ও আল জাজিরা।




