পতাকা ক্যারিয়ার

১০০ টি বিষয় যা সফল ব্যক্তিরা করে থাকেন: অনুশীলন ১৫- ‘না বলুন’

বুশরা আমিন তুবা

বুশরা আমিন তুবা
8 7 2017 1568150571

‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের ছোট্ট অনুশীলন’ বইটি হাতে অনুবাদক বুশরা আমিন তুবা। ছবি: নূর, প্রিয়.কম।

প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এই নতুন আয়োজন। এখানে ‘দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ’ এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম, ‘হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডু: লিটল এক্সারসাইজ ফর সাকসেসফুল লিভিং’ অর্থাৎ, ‘সফল ব্যক্তিরা করে এমন ১০০টি বিষয়: সফল জীবনযাপনের জন্য ছোট্ট অনুশীলন।’ সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে। আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ১৫ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। বইটি অনুবাদ করেছেন বুশরা আমিন তুবা।

আপনি একই সঙ্গে একাধিক মানুষকে কখনোই সুখী করতে পারবেন না। এতে করে নিজেই যাতনার শিকার হবেন। প্রতীকী ছবি।

পঞ্চদশ অনুশীলন: না বলুন

‘হ্যাঁ’ বলা খুব চমৎকার। কিন্তু মনে ‘না’ বলে মুখে মুখে ‘হ্যাঁ’ বলা খুবই দুঃখজনক!

আপনি প্রতিদিন কোথায় যাচ্ছেন, কী করছেন কিংবা কী খাচ্ছেন- সবকিছু ছকের মধ্যে বেঁধে ফেলা খুব সহজ। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনার যদি এতে কোনো ভূমিকা না থাকে তবে আপনি কিন্তু সবকিছুর অনুগত হয়ে যাবেন। প্রত্যেক ছোট ছোট ব্যাপারে নিজের একান্ত মতামত থাকা উচিত। পাপোস হয়ে বেঁচে থাকা মোটেও সুখকর নয় এবং এতে কোনোভাবেই আপনার আত্মবিশ্বাস এবং মূল্যবোধ বৃদ্ধি পাবে না।

জীবনের বড় বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যেখানে ‘না’ বলার জন্য আপনার আত্মা শুকিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ‘হ্যাঁ’ বলে নীরব থাকা কিন্তু আত্মহত্যার শামিল। আপনি যা মন থেকে চান, তার বিপরীত কিছু করলে আপনার স্বপ্ন এবং লক্ষ্য কখনোই অর্জিত হবে না। আমি এমন বহু লোককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি যারা নিজ স্বপ্নের বিরুদ্ধে গিয়ে স্রোতের সঙ্গে চলেছে এবং এখন প্রাণপণে চেষ্টা করছে কীভাবে নিজেকে তুলে ধরবে!

পছন্দ আপনারই। আপনি হয়তো সকলের ভালোবাসার এবং সম্মানের পাত্র হতে চান। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি একই সঙ্গে একাধিক মানুষকে কখনোই সুখী করতে পারবেন না। এতে করে নিজেই যাতনার শিকার হবেন।

আর কতদিন নিজের চরিত্রকে বাদ দিয়ে অন্যের চরিত্রে অভিনয় করে যাবেন? প্রতীকী ছবি

আঁটসাঁট বেঁধে নিজের কথা ভাবুন এবার

আপনাকে এ সত্য স্বীকার করতেই হবে যে আপনি অল্প কিছু সময়ে অল্প কিছু মানুষকেই কেবল সুখী করতে পারবেন। অন্য মানুষও আপনার জীবনে জরুরি কিন্তু সবচেয়ে জরুরি হলেন আপনি নিজে। আপনার কাজ হলো প্রতিদিন অল্প অল্প করে সাহস সঞ্চার করা এবং যে কাজটি আপনি কোনোভাবেই করতে চাইছেন না, সেটি না করা। এ ব্যাপারে নিজের বস, সহকর্মী এবং সঙ্গীকে বোঝান। নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব না দিয়ে যতদিন আপনি অন্যকে নিয়ে ভাববেন সবাই হয়তো আপনাকে বাহবা দিবে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন নিজের চরিত্রকে বাদ দিয়ে অন্যের চরিত্রে অভিনয় করে যাবেন?

যথেষ্ট হয়েছে, আর না!

দয়ালু হয়ে ও নরমভাবে ‘না’ বলতে শিখুন।

চিৎকার করে ‘না’ বলার কোনো দরকার নেই। পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন। আপনার বস যখন সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো অফিসের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কাজ করতে বলেন, তখন ঘুরে দাঁড়ান। তাকে বোঝান, আপনি এ সপ্তাহেই পরপর দু’দিন দেরি করে কাজ করেছেন। আজকে আর সম্ভব হচ্ছে না। আপনার ব্যক্তিগত জীবন আছে। এ বুদ্ধিই প্রত্যেকটি কাজে খাটান।

আপনার সুবিধার্থে এক লাইন আমি শিখিয়ে দিচ্ছি যেটা আপনি যেকোনো পরিস্থিতিতে কাজে লাগাতে পারবেন, ‘আমি আপনার সাথে গত কয়েকবার একমত হয়েছি। এখন আমি বলতে চাই আমরা কোথায় খেতে যাব\ছুটি কাটাবো\দেয়ালে কী রং করবো’?

সুত্র: প্রিয় .কম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button