শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

সুন্দরবন রক্ষায় ২৫ জুলাই ১০০ কিলোমিটার মানববন্ধন

আগামী ২৫ জুলাই সুন্দরবন-সংলগ্ন শরণখোলা থেকে শ্যামনগর পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলার ১০০ কিলোমিটার ব্যাপী জায়গায় সভা সমাবেশ ও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে একর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে সুন্দরবনবিনাশী সকল প্রকল্প বাতিলের দাবি জানাতে সংগঠনটি সভা সমাবেশ করেছে। সংগঠনির পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় সারাদেশে সুন্দরবন রক্ষায় আজ সমাবেশ-বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযোগ করা হয় খুলনায় সমাবেশকারীদের বের হতে দিচ্ছে না স্থানীয় পুলিশ। স্থানীয় সিপিবি অফিসে নেতাকর্মীরা অবস্থান করছেন।
এদিকে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ইউনেস্কো বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত করে বলেছে, এমনিতে সুন্দরবনের সুরক্ষা নেই। এরপর রামপাল প্রকল্প হলে এটি ধ্বংস হবে। এইসব তথ্য-উপাত্তের কোনো হেরফের হয়নি। বরং দেশের ও বিশ্বের বিশেষজ্ঞবৃন্দ আরো নতুন তথ্য-উপাত্ত যোগ করে এটা প্রমাণ করে চলেছেন যে, কয়লাভিত্তিক এই প্রকল্প অনিবার্যভাবে মানুষের উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে ও সুন্দরবন ধ্বংস করবে। কিন্তু এবার ওয়াল্ড হেরিটেজ কমিটির মিটিং শেষ হওয়ার আগে সরকার বিকৃত তথ্য-প্রচার করে যে উল্লাশ করলো তা বিস্ময়কর।
আনু মুহাম্মদ বলেন,দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষ সুন্দরবন রক্ষায় এই প্রকল্প বাতিলের দাবি জানালেও স্বার্থান্বেষী মহল ও সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনঢ় রয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারকে তার অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা হবে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, রুহিন হোসেন প্রিন্স ও সাইফুল হক। মোঃ শাহ আলম, বজলুর রশিদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, মোশাররফ হোসেন নান্নু, মানস নন্দী, শহীদুল ইসলাম সবুজ, নাসির উদ্দিন নসু, মাঈনুদ্দীন চৌধুরী লিটন, শামসুল আলম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।
অন্যান্য নেতা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের কথাকে সামনে রেখে সুন্দরবনবিধ্বংসী যে প্রকল্প করা হচ্ছে তা মোটেও প্রয়োজন নেই। ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প রয়েছে। এখন শিল্প কল-কারখানা না থাকায় প্রয়োজনের ২১টি জেলায় সারা দেশের তুলনায় বিদ্যুতের চাহিদা কম। এটা বাড়াতে হবে। এজন্য শিল্পান্নোয়নসহ পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের বিকল্প পথ রয়েছে। সরকার এদিকে নজর না দিয়ে সুন্দরবনের চারপাশ ঘিরে লুটেরা দখলের সুযোগ দিতে এই প্রকল্প করতে চাইছে। সম্প্রতি পত্রিকার খবরে দেশবাসী জেনেছে সরকারের নেতা-পাতিনেতারা এসব দখলদারিত্বের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। নেতৃবৃন্দ সুন্দরবন রক্ষায় ওই অঞ্চলে অনুমতিবিহীন ও অপ্রয়োজনীয় ও সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর সব প্রকল্প বন্ধের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button