
স্পোর্টস ডেস্ক ঃ প্রথমে বোলারদের দারুণভাবে ফিরে আসা, এরপর ব্যাটসম্যানদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ম্যাচ বগলদাবা করা। ডাবলিনে বুধবার ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর সারসংক্ষেপ মূলত এটিই। এর ফলে বিদেশের মাটিতে প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ডকে হারালো বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে উঠে সরাসরি পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলাও অনেকটা নিশ্চিত এখন।
ডাবলিনে বুধবার নিউজিল্যান্ডের করা ৮ উইকেটে ২৭০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় টাইগাররা। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা সৌম্য সরকার ফিরে যান দলীয় ৭ রানে। তবে এরপর ম্যাচের গল্পটা নিজেদের মত করেই লিখেছেন তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমান। এই জুটিতে ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। ১৩৬ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হয় এই জুটি। দুজনেরই সংগ্রহ সমান ৬৫ রান। তামিম বল খেলেছেন ৮০টি, সাব্বির তার চেয়ে তিনটি বেশি ৮৩।
আর দারুণ এই জয়ে তুলির শেষ আচর দিয়েছেন দুই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মুশফিক ৪৫ ও রিয়াদ ৪৬ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন গড়েছেন অবিচ্ছিন্ন ৭২ রানের জুটি।
মাঝখানে তামিম, সাব্বিরের পর মোসাদ্দেকও দ্রুত ফিরে যাওয়ায় কিছুটা শঙ্কার মেঘ জমেছিলো বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে। ১ উইকেটে ১৪৩ থেকে অল্প সময়ের মধ্যে ৪ উইকেটে ১৬০ হয় বাংলাদেশের রান। তবে টাইগার ব্যাটসম্যানরা আজ যেন পণ করেই নেমেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাই করেছেন তারা।
এর আগে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। দলীয় ২৩ রানে প্রথম আঘাত হানেন মোস্তাফিজ। তবে লুক রঞ্চি ফিরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েন টম লাথাম ও নেইল ব্রুম। লাথাম ৮৪ ও ব্রুম ৬৩ রানের নাসির হোসেনের শিকারে পরিণত হন। দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে নাসির দলের খারাপ সময়ে বল হাতে আস্থার প্রতিদান দিয়েছে দারুণভাবে।
তবে বাংলাদেশের বোলারদের সেরা পারফরম্যান্স ছিলো শেষ ১০ ওভারে। ৪২ থেকে ৪৪ এই তিন ওভারে বাংলাদেশকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছেন মাশরাফি ও সাকিব। দুজনের মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে ৪ উইকেটে ২২৪ থেকে ৭ উইকেটে ২২৬ হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। এক পর্যায়ে যাদের রান তিনশো পার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল তারা থামে ২৭০ রানে।
বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি, সাকিব ও নাসির প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট নেন। সুত্র : নয়া দিগন্ত




