তৃণমূলকে উন্নয়নের প্রচারে যেতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

পতাকা : বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা দেশের অনেক উন্নয়ন কাজ করেছি। এর সবই আমরা বুকলেট আকারে তৈরি করেছি। এগুলো আপনাদের দেওয়া হয়েছে। আপনারা পড়বেন এবং দেশের মানুষের কাছে প্রচার করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাদের গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা অর্থশালী আছেন সেখানে আর্থিক সহয়তা করবেন এবং সেটা ভালোভাবে চলার জন্য সহযোগিতা করবেন। চিকিৎসাসেবা মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর জন্য আমরা কমিউনিটি ক্লিনিক করেছি। যেখানে ৩০ প্রকারের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। যার মাধ্যমে মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা পাচ্ছে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বলা হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদীয় প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জেলার ঊর্ধ্বতন নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় পরিষদ সদস্য, দলীয় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর ও উপদপ্তর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা, উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের জন্য বছরের পর বছর কারাগারে আটক ছিলেন। কিন্তু কখনো আপস করেন নাই। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দেশের জন্য দিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য একটাই, বঙ্গবন্ধু যে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছেন, উন্নত জীবন দিতে চেয়েছিলেন। তা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটাই আপনাদের দেখতে হবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নেতার আদর্শ বাস্তবায়ন করা। কী পেলাম, না পেলাম সেটা বড় কথা না। কতটুকু জাতিকে দিতে পারলাম সেটাই বড় কথা।’
দীর্ঘদিন পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেছিল। মানুষ খেতে পারত না। হাড্ডিসার দেহ। ছেঁড়া কাপড় পরত। কাপড় কেনার মতো অবস্থা ছিল না। বিদেশ থেকে পুরোনো কাপড় এনে দেশের মানুষের মাঝে বিতরণ করা হতো। খাদ্য, চিকিৎসা বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদার অভাব ছিল। সরকার গঠন করার পর আমাদের একটাই চিন্তা ছিলে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। এ জন্য আমরা বিভিন্ন কল্যাণমুখী কর্মসূচি নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে বলেন, বয়স্কভাতা, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা মেয়েদের এবং প্রতিবন্ধীদের ভাতার ব্যবস্থা করেছিলাম। দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধার জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছিলাম। সেই সময় এমন একটা অপপ্রচার শুরু হয়েছিল যেন, মুক্তিযুদ্ধ করাটাই একটা অপরাধ ছিল। সমালোচকরা হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীদের দোসর ছিল।
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন হয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কের থ্রি-জি চালু হয়েছে। আগামীতে ফোর-জি চালু করে দিব। একটা মোবাইলের মাধ্যমে বিশ্ব এখন সবার হাতে। গ্রামের মহিলাদের সমস্যা থাকলে তা জানার জন্য ‘তথ্য-আপা’ আছে। তাঁরা মেয়েদের কাছে ল্যাপটপ নিয়ে যায়, মেয়েদের সমস্যা শুনে এবং তা দূর করে দেয়। কমিউনিটি চিকিৎসার জন্য মেয়েদের এখন আর পরিবারের ওপর নির্ভর করে না।
‘আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছিলাম, তখন বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা হাসাহাসি করত। কোনো সমস্যা হলেই তাঁরা সমালোচনা করত। আজকে কি সেই তাঁরাও ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে না, তাঁরা ব্যবহার করছে। এর সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। আমাদের উন্নয়নের সব থেকে বড় কথা হলো, আমরা তেলা মাথায় তেল দিব না। গ্রামের নিঃস্ব মানুষ যেন সরকারের সেবা পায় সেটাই আমাদের উন্নয়নের নীতিমালা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিশাল জনসংখ্যাই জনশক্তি। সেই মানুষকে নিয়েই আমরা পথ চলব। সবকিছুতে মানুষের কাছে কেন আমরা হাত পাতব। আমরা যে নিজেরাই পারি তা প্রমাণ করেছি। যখন পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির কথা বলে টাকা ফিরত নিয়েছিল, তখন আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করে তাদের জবাব দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শিক্ষাকে বহুমুখীকরণ করেছি। দেশে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। নতুন মেয়াদে আমরা আরো দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন করেছি। কিন্তু খালেদা জিয়া সরকার ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করেছিলে। আমরা পুনরায় ক্ষমতায় এসে তা বাস্তবায়ন করছি। পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে তার সাথে তাল মিলিয়ে প্রস্তুত করার জন্য নতুন প্রজন্মকে তৈরি করছি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্কুলে বাচ্চাদের টিফিনের ব্যবস্থায়ও আপনারা অবদান রাখতে পারেন। বিত্তশালীরা সাহায্য করতে পারেন। কারণ, কবে কে আমাদের সাহায্য করবে তারপর আমরা শিশুদে খাওয়াব? আমাদের তা করতে হবে কেন? নিজেরাই, নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং স্কুল কমিটির সদস্যরাই টিফিনের ব্যবস্থা করে দিতে পারে।




