যশোর প্রতিনিধি: যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার চিনাটোলায় পাঁচ শহীদ বিপ্লবী কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলুর ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁদের সমাধিস্থলে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর পাকিস্তানি শাসকদের সহযোগী রাজাকার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই পাঁচ বিপ্লবীকে হরি নদীর সেতুর ওপর গুলি করে হত্যা করা হয়।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) ও জাতীয় ছাত্রদলের যশোর জেলা কমিটি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, শোক নিরবতা পালন ও শপথ পাঠের কর্মসূচি পালন করে ।
এ ছাড়া বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির যশোর জেলা কমিটি, যশোরের লাল মশাল, শহীদ স্মৃতিরক্ষা কমিটি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা, মনিরামপুর ও কেশবপুর কমিটি এবং আসাদ স্মৃতি সংঘের পক্ষ থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। গড়ভাঙ্গা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্রী, স্থানীয় তরুণ কমরেড, তরুণ প্রজন্ম, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় মানুষও শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলা ৬ কার্তিক যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চিনাটোলা বাজারসংলগ্ন এলাকা থেকে কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলুকে রাজাকার বাহিনী গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের হরি নদীর সেতুর ওপর হত্যা করে মরদেহ নদীতে নিক্ষেপ করা হয়।
পাঁচ শহীদের রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের পথ ছিল স্বতন্ত্র। তাঁরা ছাত্র আন্দোলন, কৃষক সংগঠন এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের আত্মত্যাগ শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ও বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, তাঁদের জীবন ও সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিভিন্ন সংগঠন, তরুণ কমরেড, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সম্মিলিত শ্রদ্ধা নিবেদনের তাৎপর্য বহন করে।
শহীদ কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলুর স্মৃতি অমর হোক। তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাক।