sliderস্থানিয়

রাজাপুরে সরকারি খাল ভরাট করে দখল, সীমানা নির্ধারণ করে পুনঃখননের দাবি এলাকাবাসীর

মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি খাল ভরাট করে দখল করে বসতবাড়ি ও বাগান গড়ে তোলার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরেজমিন তদন্ত শেষে খালের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ অবস্থায় দখলমুক্ত করে খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের সাতুরিয়া মৌজায় নকশা ও সার্ভেয়ার নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম রেজা সজিব। পরিমাপ শেষে সরকারি খালের সীমানা চিহ্নিত করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, সাতুরিয়া ইউনিয়নের জে এল নম্বর-১-এর সাতুরিয়া মৌজায় বিএস জরিপ ও রেকর্ডীয় ৩৮১৩ ও ৩৮৩২ নম্বর দাগের সরকারি খালের পশ্চিমাংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। ভরাট করা জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি গাছপালা লাগিয়ে বাগান ও বসতবাড়ি গড়ে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তাই খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবিতে গত ২৫ এপ্রিল সাতুরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন খন্দকার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন । আবেদনে খালের পশ্চিমাংশ স্থানীয় মো. মোস্তফা খলিফার বাড়ির সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত। খলিফা বাড়ির নুরাণী মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশের খালের অংশও মাটি দিয়ে ভরাট করে ভোগদখল করা হচ্ছে বলে আবেদনে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্তে গিয়ে খালের অস্তিত্ব ও সীমানা যাচাই করে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও রিফাত আরা মৌরি।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভরাটের কারণে খালটির স্বাভাবিক আকৃতি বর্তমানে নেই। পরিমাপ করে খালের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দেশনা চাওয়া হবে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি খালটি দীর্ঘদিন ভরাট ও দখলে থাকায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা ও জোয়ারের সময়ে পানি চলাচল ব্যাহত হলে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খালটি পুনঃখনন করা হলে জোয়ার-ভাটার পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে এবং কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন সহজ হবে।

খালের সীমানা নির্ধারণ করায় উপজেলা প্রশাসনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে সরকারি খালটি দখলমুক্ত করে দ্রæত পুনঃখননের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button