
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামের আব্দুন নূর ও তার আত্মীয়স্বজনের প্রায় ৮-৯ বাড়িতে প্রতিপক্ষের লোকজন কর্তৃক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠান হয়।
আজ ২১ আগষ্ট শুক্রবার দুপুর ১২ টায় বাদাঘাট বাজারের বাদাম পট্রি সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী রুমা আক্তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৫ আগষ্ট শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আল আমিন নামে এক যুবক নিহত হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন ১৬ আগষ্ট একই গ্রামের মামলার বাদি পক্ষের রান মিয়া ও আলতাবের নেতৃত্বে ৩/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আসামি পক্ষের আব্দুর নুরসহ ৮-৯ টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য রুমা আক্তারের দাবি, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে।
এ সময় ধান, গরু, নৌকা, মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। পড়নের কাপড় নিয়ে বাচ্চাদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে কোনরকম জান রক্ষা করে।
এ ঘটনায় রুমা আক্তার বাদী হয়ে সুনামগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরদিন ১৭ আগস্ট আবারও তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ওই সময় আছমা খাতুন, তামান্না বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
হামলাকারীরা বসতঘরের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে টিনের বেড়া, শোকেস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
পরে শোকেসের তালা ভেঙে প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালংকার, ৬ ভরি রুপার অলংকার এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া প্রায় ১০০ মণ ধান, দুটি ফ্রিজ, তিনটি ষাঁড়, চারটি গাভিন গরু, ধান ভাঙানোর মেশিন, পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
হামলার সময় বাধা দিতে গেলে তামান্না বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানি চেষ্টা করে।
এ ঘটনায় আছমা খাতুন গত ১৭ আগস্ট তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ওই অভিযোগে ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বলছে, তারা কোনো ধরনের প্রতিশোধ বা সংঘাত চায় না। তারা চায় ঘটনার সুষ্ঠু ও এর নিরপেক্ষ তদন্ত।
পরিবারের সদস্য রুমা আক্তার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দাবি জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।
তারা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, তাহিরপুর থানা এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একটাই দাবি—প্রতিশোধ নয়, তারা চান নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা




