sliderস্থানিয়

বাধ্যতামূলক মামলা পূর্ব মধ্যস্থতা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে বিচারক-আইনজীবীদের সেমিনার

মোঃ ইসলাম,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিচারক ও আইনজীবীরা।

তাঁদের মতে, মামলা আদালতে যাওয়ার আগেই পক্ষগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে পারলে সময় ও অর্থের সাশ্রয়ের পাশাপাশি আদালতের মামলার চাপও কমবে। এতে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত, সহজ ও কম খরচে ন্যায়বিচার পাবেন।

আগামী ২১ জুলাই থেকে আদালতে ‘বাধ্যতামূলক মামলা পূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-কেস মেডিয়েশন)’ কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘বাধ্যতামূলক মামলা পূর্ব মধ্যস্থতা’ বিষয়ক সেমিনারের আয়োজন করে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস।

সেমিনারে জেলার বিভিন্ন আদালতের বিচারক, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। আলোচনায় মামলা পূর্ব মধ্যস্থতার আইনগত ভিত্তি, বাস্তব প্রয়োগ, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার নানা দিক তুলে ধরা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান মো. জামাল হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ও মানবিক ব্যবস্থা। আদালতে মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতার মাধ্যমে অনেক বিরোধ নিষ্পত্তি সম্ভব। এতে যেমন বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়, তেমনি আদালতের ওপর মামলার চাপও কমে। বিচারপ্রাপ্তিকে সহজ ও দ্রুত করতে সবাইকে এ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, মধ্যস্থতা কোনো পক্ষের পরাজয় নয়, বরং উভয় পক্ষের গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর একটি কার্যকর উপায়। বাধ্যতামূলক মামলা পূর্ব মধ্যস্থতা চালু হলে অনেক দেওয়ানি ও পারিবারিক বিরোধ আদালতে মামলা হিসেবে না গিয়েই নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) মজনু মিয়া বলেন, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষকে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে আইনগত সেবা নিশ্চিত করা। মামলা পূর্ব মধ্যস্থতা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ বিষয়ে বিচারক, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস নিয়মিত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, আদালতে একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লেগে যায়। কিন্তু মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা গেলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এড়ানো সম্ভব। এতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে বিরোধের স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনজীবীরাও মামলা পূর্ব মধ্যস্থতার কার্যকারিতা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, এ ব্যবস্থাকে সফল করতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।

সেমিনারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক শেখ ফরিদ, বিভিন্ন আদালতের বিচারক, সিনিয়র ও নবীন আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button