
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জে যৌতুকের টাকা না দিতে না পারায় জানাতুন নেশাকে শারীরিকভাব নির্যাতন, চুরির মামলা ও শেষে তালাক দিয়েছে তার স্বামী মাতিন উদ্দিন। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের পোলাডাঙ্গা গ্রামে।
সরজমিনে গেলে জান্নাতুনে নেশা কান্না জড়িত কন্ঠে জানান গত ১০-০৮-২০২৩ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার মহিপুর গ্রামের মৃত জোহরুল হকের ছেলে কাতার প্রবাসী মো:মাতিনের সাথে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরই কৌশলে তিন লাখ টাকা যৌতুক আদায় করে। পরে আবার জমি কেনার অজুহাতে আরো তিন লাখ টাকা ধার হিসাবে নিলেও তা আর ফেরত না দিয়েই মাতিন আবার কাতার চলে যায়। আড়াই বছর পর বাড়ি ফিরে এসে আবার সে দুই লাখ টাকা যৌতুন দাবী করলে জান্নাতুন নেশা দিতে অস্বীকার করায় শারীরিক নির্যাতন করে তাকে পিতার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। জন্নাতুন নেশা তার পিতাকে সব কথা বলে।
এর কয়েকদিন পর গত ২৭-০৪-২০২৬ তারিখে আবারো মাতিন আমার পিতার বাড়ি এসে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবী করলে আমি যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় সে আমাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করে চলে যায়। এঘটনায় আমি গত ৩০-০৪-২০২৬ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমলী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করায় মাতিন ও তার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে গত ০৩-০৫-২০২৬ তারিখে ডাক যোগে আমাকে তালাক পাঠায়। আমি গ্রহন না করে ফেরত পাঠায়। শুধু তাই নয়,
গত ১২-০৪-২০২৬ তারিখে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা সোনার গয়না ও গরু বিক্রী করা দুই লাখ ২০ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল চুরির ঘটনা দেখিয়ে গত ২১-০৬-২০২৬ তারিখে তার মা ও আমার শাশুড়ী নুরজাহান বেগমকে বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমলী আদালত(চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর) মামলা করে। আসামী করা হয় জান্নাতুন নেশা আমার মা তাহেরা বেগম,পিতা তরিকুল ইসলাম ও ১৫ বছরের নাবালক শিক্ষার্থী ভাই আব্দুল্লা ওরফে ইমরুলকে ।
তবে চুরির ঘটনার ব্যাপারে সরেজমিনে মাতিনের গ্রামের বাড়ি মহিপুর গেলে তার মা নুরজাহান বলেন আমার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তারা আমার বাড়ি বেড়াতে এসে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের সোনায় গয়না, গরু বিক্রী করা দুই লাখ ২০ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।
তবে মহিপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার, আনারুল ইসলাম, তোহরুল ইসলাম,শেরিনা বেগম,মারজিনা বেগম সাবিরা বেগম সহ শতাধিক নারী পুরুষ জানান,তার বাড়িতে কোন চুরির ঘটনা ঘটেনি। তাদের কোন গরু ছিল না। নুরজাহান বেগম তার ছেলে মাতিনের আগের স্ত্রীকে নির্যাতন করায় সে টিকতে পারেনি। পরের স্ত্রী জান্নাতুন নেশাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে। নিজের দোষ ধামাচাপা দিতেই জান্নাতুন নেশার ও তার পিতা মাতা ও ভাইকে আসামী করে সাজানো ঘটনায় মামলা করে হয়রানী করছে। তারা আরো জানান মামলার যারা স্বাক্ষী তারাও অন্য গ্রামের। এ বিধবা নুরজাহানকে ইন্ধন যোগাচ্ছে এলাকার কামাল উদ্দিন নামে একটি মহরাল।




