sliderস্থানিয়

প্রেম টিকাতে পুলিশের ভুয়া পরিচয়! আইডি বানাতে গিয়ে ধরা

রতন রায়হান, রংপুর: প্রেমের সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে গিয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেজেছিলেন এক যুবক। নিজেকে পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) পরিচয় দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত সেই মিথ্যা পরিচয়ই তার জন্য হয়ে দাঁড়ায় কাল। ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড বানাতে গিয়ে রংপুর নগরীতে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক যুবক।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর ব্যস্ততম প্রেসক্লাব এলাকায় একটি প্রিন্টিং দোকান থেকে তাকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে মোস্তাফিজুর প্রেসক্লাবের একটি ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত আরটি প্রেসে যান। সেখানে গিয়ে নিজেকে পুলিশের একজন এএসপি হিসেবে পরিচয় দেন এবং একটি অফিসিয়াল আইডি কার্ড তৈরির অর্ডার দেন।

প্রথমদিকে তার কথাবার্তা স্বাভাবিক মনে হলেও আইডি কার্ড হাতে নেওয়ার পর তার আচরণে অসংগতি ধরা পড়ে। দোকানদার ও উপস্থিত লোকজনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা কৌশলে তাকে আটকে রেখে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে ভুয়া পুলিশ আইডি কার্ড উদ্ধার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোস্তাফিজুর স্বীকার করেন, তিনি এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে পুলিশের এএসপি পরিচয় দেন। শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কিছু ছবিও দেখান তিনি।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই তরুণীর সন্দেহ তৈরি হয়। তিনি সরাসরি মোস্তাফিজুরের কাছে তার অফিসিয়াল পরিচয়পত্র দেখতে চান। এতে চাপে পড়ে যান তিনি। আর সেই চাপ থেকেই ভুয়া আইডি কার্ড তৈরির পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ জানায়, দিনাজপুর থেকে রংপুরে এসে তিনি একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন।

জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। কিন্তু সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। তার এই প্রতারণামূলক পরিচয় শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের মুখোমুখি করেছে।

আটকের পর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোস্তাফিজুরের পরিবার। তারা দাবি করেন, গত ছয় মাস ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সবদিক বিবেচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, প্রতারণার চেষ্টা ও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সংস্থার পরিচয় ভুয়া উপায়ে ব্যবহার করা গুরুতর অপরাধ। বিশেষ করে বাংলাদেশ পুলিশ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করলে তা ফৌজদারি আইনে দণ্ডনীয়। এর জন্য জেল ও জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে ‘প্রেমে প্রতারণার চরম উদাহরণ’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে সামাজিক বাস্তবতা ও মানসিক চাপের প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করছেন।

একটি মিথ্যা পরিচয় দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত আইনের জালে গিয়ে আটকে গেল। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় সাময়িক সুবিধার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিলেও তার পরিণতি কখনোই সুখকর হয় না।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button