
সবাই শুধু সরকারের ওপর দোষ চাপায়৷ নিজের দায়িত্বটুকু পালন না করে শুধু সমালোচনায় ব্যস্ত সবাই৷ ফলে উচ্ছন্নে যাচ্ছে সব৷ আফরোজ শাহ সরকার বা অন্যের দোষ না ধরে এক ছুটির দিনে নিজেই নেমে পড়লেন কাজে৷
বছর না পেরোতেই কারো কারো কাছে এখন তিনি ‘জীবন্ত কিংবদন্তি’৷
কী কাজ করে এত প্রশংসা কুড়াচ্ছেন আফরোজ? শুধু ঘুরে ঘুরে ময়লা পরিষ্কার করে৷ নীচের টুইটের ছবিগুলো দেখুন৷ অপরূপ এই ছবিগুলো মুম্বাইয়ের এক সমুদ্র সৈকতের৷ সৈকতটা কী ঝকঝকে পরিস্কার, তাই না? কিছুদিন আগেও কিন্তু এমন ছিল না৷ তখন সেখানে এত ময়লা ছিল যে, অনেকে আনন্দ করতে গিয়ে মন খারাপ করে বলতেন, ‘ইস, কী নোংরা! সরকার কি কোনো কাজই করে না? এসব দেখার কি কেউ নেই?’ টানা ৪৮ সপ্তাহ মাত্র একটি করে ছুটির দিন উৎসর্গ করে সাগর তীরের সেই ময়লা-আবর্জনার রাজ্যটাকে এমন আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত বানিয়ে ফেলেছেন আফরোজ শাহ৷
ছয় দিনের খাটুনির পর ছুটির দিনে সবাই আরাম-আয়েশ করেন৷ আফরোজ তাঁদের মতো নন৷ তিনি নিছক ‘সচেতন সমালোচক’ নন, তিনি পরিবর্তন পিয়াসি আন্তরিক কর্মী৷ তাই প্রতি শনিবার সকাল হলেই ছুটে যান সমুদ্র সৈকতে৷ সঙ্গীদের নিয়ে নিজ হাতে সাফ করেন বেড়াতে এসে অনেকের ছুঁড়ে ফেলা সিগারেট, চিপস বা আইসক্রিমের প্যাকেটসহ নানা ধরনের ময়লার স্তূপ৷

এক সময় যেখানে আবর্জনার ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে অনেকে ঘেন্নায় নাক সিঁটকাতেন, সেই সি-বিচকে হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে দিয়েছেন আফরোজ৷
কাজ শুরু করেছিলেন মাত্র দু’জন স্বেচ্ছাসেবীকে সঙ্গে নিয়ে৷ প্রথমে অনেকেই নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছেন তাদের, বলেছেন, ‘এভাবে দু-একদিন দু-একজনের পরিশ্রমে কোনো কাজ হবে না৷’
কিন্তু তাদের কথায় কান দেননি আফরোজ এবং তার সঙ্গীরা৷ ফলে নিরুৎসাহীর সংখ্যা কমেছে, ধীরে ধীরে উৎসাহী, উদ্যমী আরো কিছু মানুষ এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন৷ এখন প্রতি শনিবার আফরোজের সঙ্গে থাকেন দুশ’ জন স্বেচ্ছাসেবী৷ তাদের কর্মতৎপরতায় সমুদ্র সৈকত এত সুন্দর হয়ে ওঠে যে, কেউ কেউ মনে করেন অচিরেই মুম্বাইয়ের এই সমুদ্রসৈকত সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্যই অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে৷ ভারতের টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব নরেশ সূরি তো মনে করেন, ‘এক বছরের মধ্যেই এই সমুদ্র সৈকত একেবারে গোল্ডেন বিচের মতো হয়ে যাবে৷ তখন এই সৈকতে এসে খেলতে, গান গাইতে, সময় উপভোগ করতে সবাই সত্যিই খুব ভালোবাসবে৷’
মাত্র ৪৮ সপ্তাহেই সবার মনে এতটা আশার সঞ্চার করেছেন আফরোজ শাহ৷ সমুদ্র সৈকতের হাল অল্প সময়েই বদলে দিয়ে আফরোজ অনেকের কাছেই এখন ‘জীবন্ত কিংবদন্তি’৷
– ডিডব্লিউ




