sliderস্থানিয়

হরিরামপুরে আ’লীগ নেতার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের দাবি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মান্নানের মুক্তিযোদ্ধা সংবাদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন শত শত গ্রামবাসী।

রবিবার (২৪ আগস্ট ) দুপুরে দিয়াবাড়ি বাজারের আশপাশ এলাকা অর্থ শতাধিক গ্রামবাসী জড়ো হয়ে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবি করেন।

ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল মান্নান চাঁদাবাজি লুটতরাজ ও নৈরাজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ করার কারণে মুক্তিযুদ্ধের এতদিন পর ২০২২ সালে পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃসাশনামলে তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা)তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পর থেকে তিনি সরকারি ভাতা উত্তোলন শুরু করে।

হাসমিলান গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ জানান, আব্দুল মান্নান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি, বরং ১৯৭১ সালে রাজাকার বাহিনীর সঙ্গে মিলে এলাকায় লুটপাট চালিয়েছিলেন। যাত্রাপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার শাহাদতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ মোল্লা জানান, আব্দুল মান্নানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের দাবিতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার বরাবর আবেদন করেছি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রেজ্জাকুল হায়দার রাজা বলেন, আমরা সাতজন ভারতে গিয়ে ট্রেনিং করে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। কিন্তু আব্দুল মান্নান কখনো যুদ্ধ করেছেন বলে শুনিনি। তিনি যদি মুক্তিযোদ্ধা হতেন, তৎকালীন কমান্ডার আনিসুর রহমান জীবিত থাকাকালেই অন্তত স্বীকৃতি দিতেন। কিন্তু তিনি বাধা দিয়েছেন। মৃত্যুর পর কীভাবে মান্নান সনদ পেলেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগ রয়েছে, স্বাধীনতার পরও তাঁর নানা অপকর্ম থেমে থাকেনি। ১৯৯১ সালে তাঁর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী গণপিটিশন করে পুলিশে অভিযোগ জানায়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারও করে। ২০২১ সালে আরেক ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হলে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে আপস করেন তিনি। মাঝে মাঝে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন।

খোরশেদ মোল্লা বলেন, একজন ভুয়া ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম থাকা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অপমানজনক। আমরা চাই, মান্নানের নাম গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হোক এবং তাঁর সনদ বাতিল করা হোক।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মান্নান মোল্লা বলেন, অভিযোগকারী খোরশেদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে আমার মামলা চলমান। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানি, ঢাকা পশ্চিমাঞ্চলের সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর দেওয়া সনদ আছে বলেও দাবি করেন আব্দুল মান্নান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button