
রতন রায়হান, রংপুর: রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানাধীন এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলছে প্রকাশ্যে তাসের জুয়ার আসর, অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার আসর। স্থানীয় সূত্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, দালালহাট নামক জায়গায় অনলাইন ক্যাসিনো জুয়ার বেশ কয়েকজন ডিলার আছেন। যারা অল্প থেকে মাঝারি বয়সের মানুষদের টার্গেট করে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই চক্রটি, তাতে টাকা পয়সা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে নানাবিদ অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে মানুষজন। আর অনলাইন ক্যাসিনো এই ডিলারগণ রংপুরে জমিজমা, বাসাবাড়ি নির্মাণসহ উচ্চ বিলাসী জীবন যাপন করছেন। যার ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। থানার একেবারে সন্নিকটে—হারাগাছ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মায়াবাজার মোল্লাটারি বাঁধের পাড় এবং সাহেবগঞ্জের নোয়াখালী গ্রামে নিয়মিতভাবে রাতদিন এই জুয়ার আসর বসছে। এতে করে উঠতি বয়সের যুবকরা দিন দিন বিপথে চলে যাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে পারিবারিক শান্তি ও সামাজিক ভারসাম্য। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোল্লাটারি বাঁধপাড়ে প্রতিদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে তাসের জুয়ার আসর চলে। শুধু টাকা নয়, বন্ধক রাখা হয় মোটরসাইকেল,স্বর্ণালঙ্কার,এমনকি ঘরের আসবাবপত্রও।
প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার জুয়া খেলা হয় এখানে। আর রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত সাহেবগঞ্জের নোয়াখালী গ্রামে চলে আরেকটি জুয়ার আসর-যেখানে “ডাবু জুয়া”,”তাসের তিন কাট” সহ নানা রকম জুয়ার আয়োজন করা হয়। এই জুয়ার কারণে যুবসমাজ মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। উঠতি বয়সের ছেলেরা পরিবারে টাকা চুরি করছে, এবং জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে। সমাজে বাড়ছে কলহ, অবিশ্বাস ও অপরাধপ্রবণতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার আয়োজন করছে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
মায়াবাজার মোল্লাটারি বাঁধপাড় এলাকায়:-ইছা মিয়া (৬৫), পিতা মৃত ইসমাইল হোসেন, ইব্রাহিম (৬০), পিতা মৃত ইসমাইল হোসেন, রবিউল ইসলাম (৪৫), পিতা অজ্ঞাত, সাহেবগঞ্জ-নোয়াখালী গ্রামে:-ছবি (৫৫), পিতা- মৃত নসির উদ্দিন, কালাম মিয়া (৫০), পিতা-মৃত আব্দুল হাকিম, মজিদ মিয়া (৫৫), পিতা-ইব্রাহিম, বাংটু (৪৬),পিতা অজ্ঞাত, আলী আহমেদ (৫৫),পিতা-মৃত নুরু মিয়া, খলিল মিয়া (৪৪), পিতা- ছগির উদ্দিন, লোকমান হোসেন (৫০), পিতা- জব্বার আলী, খালেক (৪০), পিতা-মোজাহার, তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা একাধিকবার অভিযোগ করলেও দৃশ্যত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে—তাদের মদদদাতা হিসেবে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় সুবিধাভোগীরা রয়েছেন, যারা প্রশাসনিক চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব জুয়া অব্যাহত রাখতে সাহায্য করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, থানার একেবারে পাশে দিনের পর দিন এভাবে জুয়ার আসর চলতে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাও নিয়ে। স্থানীয়দের মতে, “অপরাধীরা যতই শক্তিশালী হোক, প্রশাসন চাইলে এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব।”
এলাকাবাসীর দাবি—সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে এই জুয়ার আসর বন্ধ করতে হবে। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।




