
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি গ্রহণ করে এ রুল জারি করেন।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব এবং ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অভিভাবক ও আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো: মোখলেছুর রহমান।
পরে ইউনুছ আলী জানান, ২০১০ সালের ১৪ মার্চ সরকার জেএসসি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে ওই বছরের ১৫ জুন সরকার পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৩১ আগস্ট একটি রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়।
তিনি আরো বলেন, এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষা ১৯৬১ সালের পাবলিক পরীক্ষা অধ্যাদেশ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে এ আইনের বিকল্প কোনো আইন তৈরি হয়নি। এ আইনে জেএসসি পরীক্ষা বলতে কিছু নেই। সরকার প্রজ্ঞাপণের মাধ্যমে জেএসসি পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি কোচিং বাণিজ্য বাড়ছে।
প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ২৭ জুন তাতে অসম্মতি জানায় মন্ত্রিসভা।
জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে গত ১৮ মে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে সরকার।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রচলন হয়। পরের বছর মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয় ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা।
আর ২০১০ সালের ১৫ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে আয়োজন করা হচ্ছে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা।




