
শাহীন রাজা: ইরানের ভূখন্ডে, পাকিস্তান মিসাইল আঘাত করেছে। এর আগে ইরান, পাকিস্তানের সীমান্ত রাজ্য বালুচিস্তানে মিসাইল আঘাত করে। উভয় দেশের মিসাইল আঘাতে, দুই দেশের শিশু এবং বয়স্ক লোক নিহত হয়। পরষ্পর যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চল, অস্থির হয়ে উঠলো ! সার্বিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের বক্তব্যে মনে হচ্ছে, এই আঘাত, প্রতিঘাতের ব্যপ্তি আরও বিস্তৃত হবে । এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পরাশক্তিদের মনোবাঞ্ছনা পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
আলাপ, আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বৈরিতা বন্ধ করা জরুরী। না করা গেলে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে যাবে। এশিয়ার এই অঞ্চলে একদেশের প্রতি আরেক দেশের প্রতি আরেক দেশের। এক জনগোষ্ঠীর প্রতি আরেক জনগোষ্ঠীর বিবদমান ক্ষোভ আছে, তা যুদ্ধে পরিণাম নেবে। এমন কি বৃহৎ রাষ্ট্রের ভেতর এক সম্প্রদায়ের প্রতি যে বিদ্বেষ চলছে, তা-ও সশস্ত্র রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্র বা জাতিগত স্বার্থে দীর্ঘদিনের শত্রু, মিত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে এই অঞ্চলে বড় রাষ্ট্রগুলোর আচরণগত সমস্যার কারণে ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলো জোটবদ্ধ হওয়ার সমুহ সম্ভাবণা। এমনকি ঐক্যবদ্ধ হয়ে বড় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যাবে।
এরকম একটা পরিস্থিতির উদ্ভব হলে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারত এবং চীন। ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া মনে করে তাদের আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় চীন। একই ভাবে, ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর-একই ভাবনা।
পশ্চিমা বিশ্ব দীর্ঘদিন ধরে এমন এক দিনের অপেক্ষায় আছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে তারা মনে করছে, বৃহৎ এবং জনবহুল রাষ্ট্র তাদের অর্থনৈতিক যাত্রায় প্রধান প্রতিবন্ধক। আগামীতে হয়তো-বা অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ-ও হাত ছাড়া হয়ে যেতে পারে। তা-ই বড় রাষ্ট্রের আশপাশের ছোট, ছোট রাষ্ট্রকে সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বড় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা।
সোভিয়েত ইউনিয়ন সময়কালে, পৃথিবীর বড় রাষ্ট্রগুলো সোভিয়েত বলয়ে ছিল। সে সময়ে-ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্ব ছোট, ছোট রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার নীতি নেয়। এই ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়ে সোভিয়েত বলয় ভুক্ত রাষ্ট্রের ক্ষমতা ভেঙে দেয়। মিশর থেকে শুরু করে মিয়ানমার পর্যন্ত তাদের পছন্দের সরকার ক্ষমতায় আনে।
তখনকার প্রচারণা ছিল, সমাজতান্ত্রিক দল ঠেকাও। সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে একমুখী চলা। এতে মানুষের সুকুমার বৃত্তি প্রকাশিত হয় না। এক দল থাকায় সরকার হয়ে চলে এক নীতিতে। ভিন্ন মতের কোন সুযোগ নেই।
একবিংশ এসে বলছে, প্রতিটি দেশে গণতন্ত্র এবং কথা বলার অধিকার থাকতে হবে। তা না হলে, সরকার স্বৈরশাসকে রূপ নেয়। আর-ও পরিষ্কার করে বলতে হয়, চীন, রাশিয়ার বলয়ে চলে যায়। সম্প্রতি এই বলয়ে, ভারত এবং ইরানের অন্তর্ভুক্তি।
তবে একথা-ও সত্য গণতান্ত্রিক বিশ্বের দেশগুলোর মানুষ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আশা করে। এবং অবাধ তথ্য প্রবাহ বা প্রাণ খুলে কথা বলা তাদের পছন্দ।
আবারও বলছি, ইরাক – ইরান যুদ্ধের পর কিন্তু মধ্য প্রাচ্যে রাজনৈতিক চিত্র পাল্টে যায়। এর কয়েক বছর পর আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে আফ্রিকা মহাদেশে আরব ভাষাভাষী দেশগুলোতে শুরু নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ।
ইরান – পাকিস্তান যুদ্ধ-ও কি তেমন কিছুর পূর্বাভাস !
লেখক সিনিয়র সাংবাদিক



