slider

দাউদকান্দি জিংলাতলীর সেতুর এ্যাপ্রোচে মাটি নেই দূর্ভোগের শিকার এলাকাবাসী

মোহাম্মদ হানিফ খান, দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের গলিয়ারচর-ছান্দ্রা সড়কের গলিয়ারচর খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা। এই বেহাল সেতু দিয়ে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ৯ ডিসেম্বর শনিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গলিয়ারচর (চারপাড়া) গ্রামে নির্মিত ওই সেতুর দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার ও প্রস্থ পাঁচ মিটার। সেতুটির রেলিং একাংশ ভেঙে গেছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি নেই। সেতুটিতে ওঠার জন্য দুই পাশে বিদ্যুতের কাঠের খাম্বার সাঁকো স্থাপন করা হয়েছে। এই সাঁকো দিয়ে স্থানীয় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছে। সেতুটি দিয়ে উপজেলার গলিয়ারচর, চররায়পুর, চরচারিপাড়া গ্রামসহ আশপাশের প্রায় তিন হাজার মানুষ চলাচল করে। গলিয়ারচর গ্রামের কৃষক জামির হোসেন, রিয়াজুদ্দিন, আইয়ূব আলী মাদবর,আলম সরকার ও সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের দক্ষিণ পাশে দুটি ফসলের মাঠ রয়েছে। মাঠের কৃষিপণ্য বাড়িতে আনতে হলে সেতুটি ব্যবহার করতেই হয়। এ সেতু ছাড়া চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় জনগণ সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ছান্দ্রা আবির কঞ্জুমার ফুড প্রোডাক্টসের ডাইরেক্টর ও জিয়ারকান্দি হাফিজ উদ্দিন ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার শিক্ষক মোঃ সোহেল মোস্তফা বলেন, সড়কের ওই স্থানের সেতুটি পুনর্র্নিমাণ করা হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে ছয়সাতটি গ্রামের লোকজনের যাতায়াতের দূরত্ব কমে আসবে। এছাড়া কালা ডুমুর নদীতে গার্ডার সেতুটি বালুর ট্রলারের আঘাতে ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াত দুরূহ হয়ে গেছে, যার ফলে বিশাল জমির মাঠ অনাবাদি রয়েছে। জিংলাতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, এ ইউনিয়নের চারপাড়া গ্রাম থেকে ছান্দ্রা হয়ে সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিলিত হয়েছে। যাতায়াতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সেতুটির দুই পাশে মাটি না থাকায় জনগণ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। গ্রামের মাঠের কৃষিপণ্য বাড়িতে আনতে কষ্ট হচ্ছে। তাই এই খালের সেতুটি পুনর্র্নিমাণের জন্য তিনি চেষ্টা চালাচ্ছেন। দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য পারুল আক্তার বলেন, তৃনমুলের উন্নয়ন জড়িত গলিয়ারচর ও ছান্দ্রা সড়ক, এই সড়কের মাঝে তিনটি সেতু। একটি ভেঙে গেছে আরেকটি ঝুকিপূর্ণ উত্তর পাশের সেতু মোটামুটি চলাচল যোগ্য। ইউনিয়ন পরিষদের সাথে সরাসরি এবং কৃষি পন্য পরিবহনে দুটি সেতুর পুননির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী আফসার হোসেন খন্দকার বলেন, সেতুটি প্রায় ৪৪ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। সরেজমিন গিয়ে খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে আর এম পি প্রকল্পের আওতায় মাটি ভরাট করার কথা তিনি নিশ্চিত করেন। এদিকে কালা ডুমুর নদীতে ভেঙে যাওয়া গার্ডার সেতুটি পুননির্মাণ বিষয়ে কাগজপত্র পিডি বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ছবির ক্যাপশন : দাউদকান্দি গলিয়ারচর ছান্দ্রা সড়কে এ্যাপ্রোচের মাটি বিহীন ঝুকিপূর্ণ সেতু

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button