
‘ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েককে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তাল (ভারতের) জাতীয় রাজনীতি। সম্প্রতি, বাংলাদেশের জঙ্গি হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এক জঙ্গি নিজেকে জাকির নায়েকের শিষ্য বলে দাবি করে।
আর তারপরই বিজেপি সামনে আনে কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহের সঙ্গে নায়েকের এক ভিডিও সাক্ষাতকার। তারপর থেকেই বিজেপি জাকির নায়েক ইস্যুতে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করতে শুরু করে। এর পাশাপাশি পিস টিভি নামক যে চ্যানেল জাকিরের অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে, সেই চ্যানেলকেও ‘ব্যান’ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’-এই ছিল জি নিউজের বাংলা সংস্করণের একটি খবরের অংশ। অর্থাৎ জাকির নায়েক নিয়ে যা চলছে তার নেপথ্যে রয়েছে ভারতের রাজনীতি!
এ দিকে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েকের ‘পিস টিভি’তে, তার সম্প্রচার বন্ধ করতে শুরু করেছে ভারত। শনিবার রাত থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় হামলাকারীরা এই চ্যানেলটি দেখেই সন্ত্রাসে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল, এরকম একটি খবর সামনে আসার পরেই ‘পিস টিভি’-র সম্প্রচার নিয়ে ঢাকা থেকে দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
ভারতে ‘পিস টি ভি’-র সম্প্রচার করার অনুমতি নেই। তবুও বেআইনীভাবে অনেক কেবল অপারেটর এই চ্যানেলটি সম্প্রচার করেন স্থানীয় মুসলমান দর্শকদের চাপে।
জাকির নায়েক ভারতের যে মুম্বাই শহরের বাসিন্দা আর তার পরিচালিত যে ট্রাস্ট এই টিভি পরিচালনা করে, সেখানকার পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল তৈরি হয়েছে পিস টিভির কার্যক্রম খতিয়ে দেখার জন্য।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও পীস টি ভিতে প্রচারিত জাকির নাইকের বক্তব্যগুলি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে, সেগুলোতে কোনোভাবে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা তার প্রচারণা চালানো হয়েছে কী না, সেটা জানতে।
কলকাতার কয়েকটি এলাকায় শনিবার ভারতীয় সময় রাত সাড়ে নটা পর্যন্তও পিস টিভি দেখা যাচ্ছিল, তবে তারপরেই হঠাৎ সেটি বন্ধ হয়ে যায় বলে বিবিসি কে জানিয়েছেন মুসলমান প্রধান ট্যাংরা অঞলের এক বাসিন্দা।
বেআইনীভাবে পিস টিভি-র যে সম্প্রচার চলছে, সেই ছবিও তিনি বিবিসি-কে পাঠিয়েছেন নাম উল্লেখ না করার শর্তে।
কলকাতার স্থানীয় কেবল টিভি অপারেটরা বলছেন শনিবারই থানা থেকে তাদের বলা হয়েছে ওই চ্যানেলের বেআইনি সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের পুলিশও একই নির্দেশ দিচ্ছে স্থানীয় কেবল টিভি অপারেটদের।
মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভুপালের অন্তত দুজন কেবল অপারেটর এই নির্দেশ আসার কথা নিশ্চিত করেছেন বিবিসি বাংলাকে।
তারা এটাও জানিয়েছেন যে পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ আসার পরেই পিস টিভি-র সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।




