উপমহাদেশশিরোনাম

আম নিয়ে পাকিস্তান-ভারত লড়াই

শুধু কাশ্মীর, স্যার ক্রিক বা সিয়াচেন নিয়ে নয়, জানেন কি, বাগানের আম নিয়েও ভারত-পাকিস্তানে পুরনো অশান্তি রয়েছে? রাতাউল আমের উৎস নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে বহু বছর ধরে চলছে বিতর্ক। অশান্তির সূত্রপাত ১৯৮১-তে। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডিকে এক ঝুড়ি আম পাঠান, বলেন, তা নাকি তার দেশের ‘স্পেশাল ম্যাঙ্গো’। সেই আম খেয়ে ইন্দিরা এতটাই আপ্লুত হয়ে পড়েন, যে তিনি রাতাউল আমের প্রশংসা করে জেনারেল জিয়াকে খোলা চিঠি লেখেন, তাতে সার্টিফিকেট দেন, ওই আম শুধু পাকিস্তানেই ফলে।
প্রধানমন্ত্রীর চিঠির কথা জানাজানি হতে শুরু হয় হইচই। উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার রাতাউল গ্রামের আম চাষীরা সোজা গিয়ে ইন্দিরাকে জানান, ওই রাতাউল আম ভারতেই ফলে, মোটেও পাকিস্তানে নয়। তাদের দাবি, তাদের গ্রামেরই একজন দেশভাগের পর পাকিস্তানে চলে যান, সঙ্গে নিয়ে যান রাতাউল আমের বেশ কয়েকটি চারা। মুলতানে গিয়ে তিনি ওই আম ফলান, নিজের বাবার স্মৃতিতে তার নাম দেন আনোয়ার রাতাউল। তারপর থেকেই মুলতানি আমের রমরমা আর আমের রাজা ওই আনোয়ার রাতাউল আম। পাকিস্তানে ওই আমের ওপর স্ট্যাম্পও বার করেছে।
তাদের গ্রামের বাগানে ফলে থাকা আমের ওপর পাকিস্তানের এই মৌরসীপাট্টা স্বাভাবিকভাবেই চটিয়ে দেয় রাতাউলের বাসিন্দাদের। তারাও এক বাক্স আম ইন্দিরা গান্ধীকে পাঠিয়ে অনুরোধ করেন, ওই আম যেন পাক প্রেসিডেন্টকে উপহার দেন তিনি।
তখন থেকেই রাতাউল নিয়ে দুদেশের দ্বন্দ্ব চলছে। বিশ্বজোড়া আম উৎসবে মুখোমুখি হলেই ভারত-পাক অশান্তি শুরু হয়, রাতাউল কার, তা নিয়ে। ভারতীয়দের বক্তব্য, বাগপত ও আশপাশের এলাকার ২,০০০ বিঘারও বেশি জায়গায় শুধু রাতাউল আম ফলছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই আম খেয়ে বড় হয়েছেন তারা। তাহলে কী করে তাদের গ্রামের নামে রাতাউল আম পাকিস্তানের হয়ে যায়?
অতএব, কাশ্মীর, স্যার ক্রিক, সিয়াচেনের মতই ও ভারত- পাক দ্বন্দ্বের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে রয়েছে এই রাতাউল আম। তফাত শুধু এই, অশান্তিতে বারুদের গন্ধ নেই, আছে মিষ্টি রসে ভরা বিস্ময়কর অনুভূতি। সুত্র: নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button