চারদিনে দাউদকান্দিতে দুই খুন

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: গতকাল রোববার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের বাসরা গ্রামে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকশো লোক মিলে বরখাস্ত কৃত পুলিশ সদস্য রাহিজুল আমিন বাঁধন (২৭)কে চোখে ও শরীরে বিভিন্ন অঙ্গে কুপিয়ে হত্যা করে।
এর তিনদিন আগে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের খোশ কান্দি রেজাউল (২৭)কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
দু’টি ঘটনায় চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। বাসরা গ্রামের আলী আহম্মেদের (সাবেক সেনাসদস্য) ছেলে রাহিজুল আমিন বাঁধনের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধ ডজন মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রথমে প্রতিপক্ষের সাথে বাঁধনের আত্মীয় স্বজনরা মারামারি করে এতে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হলে কয়েক গ্রামের কয়েকশত লোক বাঁধনের বাড়ি ঘেরাও করে তাঁর উপর হামলা করে, এতে সে পাশের রফিকুল ইসলামের দালানে আশ্রয় নেয়।
তখন বিক্ষুব্ধ লোকজন দালানের দরজা ভেঙে ঢুকে বাঁধনের চোখে ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে কুপিয়ে জখম করে। এসময় তার মা রোকেয়া (৬০) বড় ভাই সুমন (৩০) ছোট ভাই সোয়েব (২৫) ভাগিনা ইমরান (১৬) আহত হলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুর নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক সকলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। ওখানে বাঁধনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাঁধনের স্ত্রী আখি আক্তার ও ভাবি আয়েশা আক্তার জানান, বাঁধন সহ অন্যদের হত্যার উদ্দেশ্য পরিকল্পিত ভাবে হামলা করা হয়েছে এঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের খোশ কান্দি গ্রামে সাইজদ্দিনের ছেলে রেজাউল (২৭)কে গত বৃহস্পতিবার তারাবিহ নামাজের সময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন সড়কে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে দূর্বেত্তরা, এর আগে তাঁর চাচাতো ভাই শরীফকে দূর্বৃত্তরা আহত করলে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে সেও হামলার শিকার হন।
তাকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকায় পাঠানোর পর রেজাউলকে মৃত্যু ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। শরীফ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনায় রেজাউলের ছোট ভাই ইউসুফ বাদী হয়ে ১৩ জনের নামোল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।




