slider

শেরপুরের ঐতিহাসিক সূর্যদী গণহত্যা নিয়ে নাটক

মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের ঐতিহাসিক ‘সূর্যদী গণহত্যা’ বিষয়ক নাটক “সূর্যদীর গল্প” মঞ্চায়িত হলো সূর্যদী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে।

জনাব মো. কামরুজ্জামান বিপিএম, পুলিশ সুপার, শেরপুর এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মো. আতিউর রহমান আতিক এমপি মহোদয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মহোদয় তার বক্তব্যে বলেন আমরা অনেকে ১৯৭১ সালের (২৪ নভেম্বর) সূর্যদী গণহত্যার কথা ভুলে গেছি। কিন্তু শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মহোদয় এসে মুক্তিযুদ্ধে সূর্যদী গণহত্যার বিষয় গুলো স্মরণ করে এবং মনে প্রাণে দিবসটি লালন করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা সবাই যদি শহীদদের পরিবারকে সম্মান করি আমি মনে করি যুদ্ধাহত পরিবারগুলো অনেক সম্মানিত হয় এবং তাদের অতীতের হারানো ব্যথাগুলো ভুলে যায়।

এতদিন মানুষ শুধু এই সূর্যদীর গণহত্যা সম্পর্কে শুনেছেন কিন্তু আজ পুলিশ সুপার মহোদয়ের গবেষণা ও সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে যে নাটকটি আমরা দেখলাম এটি দেখার পর আমরা কিছুক্ষণের জন্য সেই মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ফিরে গিয়েছিলাম।

তরুন প্রজন্ম এই মঞ্চায়নটা দেখে আমি মনে করি তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে।

পরিশেষে তিনি পুলিশ সুপার মহোদয় সহ সহযোগী সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

শেরপুরের পুলিশ সুপার মহোদয় তার বক্তব্যের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী বঙ্গবন্ধু’র পরিবারের সদস্য ও অন্যান্যদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

সেই সাথে এই সূর্যদীর মাটিতে যারা শহীদ হয়েছেন তাদেন গভীর শ্রদ্ধা স্মরণ করেন।

তিনি আরও বলেন সূ্র্যদীর গল্প নাটকে আফছারের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কাহিনী আমরা সারাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চায়। এক আফছারের জীবনের বিনিময়ে প্রায় ৪৯ জন যারা বেঁচে গিয়েছিলেন এবং তাদের মনে যারা জীবিত আছে তাদেরকে সাথে নিয়ে আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতেই আমাদের এই আয়োজন।

তিনি আরও বলেন আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো সংরক্ষণ করে রাখতে চায়।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় আমরা তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর।
বঙ্গবন্ধু কে আমরা সকল সমালোচনা ঊর্ধ্বে রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমরা বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি।

এর আগে সূর্যদী যুদ্ধ ও গণহত্যা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এম এ হাসেম সূর্যদী গণহত্যা নিয়ে জানান পাক হানাদার বাহিনী গ্রামটিতে হামলা চালায়। এলাকার লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই হানাদার বাহিনী ছুড়তে থাকে এলোপাতাড়ি গুলি।

ওইসময় গ্রামের একটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধা আফসার উদ্দিন দূর থেকেই ফাঁকা গুলি করতে থাকেন। গুলির আওয়াজ পেয়ে পাকবাহিনীরা লাইনে দাঁড় করানো লোকদের ফেলে রেখে ছুটে যায় তার সন্ধানে।

পরে মুক্তিযোদ্ধা আফসার উদ্দিন ও সূর্যদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে একটি ধানক্ষেতে নির্মমভাবে হত্যা করে পাকসেনারা।

সেইসাথে শহীদ হয় গ্রামের মোট ৪৯ জন। শেরপুরবাসীর কাছে এক ঐতিহাসিক স্মরণীয় দিন।

এসময় জনাব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, কমান্ডেন্ট, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, শেরপুর ও তার সহধর্মিণী ; জনাব সানজিদা হক মৌ, সভানেত্রী, পুনাক, শেরপুর; বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, গণমাধ্যম কর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button