রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন নিয়ন্ত্রণে : পুড়ল ২ হাজারের বেশি ঘর

এইচ.কে রফিক উদ্দিন, উখিয়াঃ কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দুই হাজারের অধিক ঘর পুড়ে গেছে ছাঁই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে।
এর আগে রোববার দুপুর ৩টার দিকে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ অগ্নিকাণ্ডে মাথাগোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে প্রায় ১২ হাজার রোহিঙ্গা।
শিবিরে আগুনের ঘটনাটি দুঃখজনক জানিয়ে উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) সরওয়ার কামাল জানান, “প্রায় দুই ঘণ্টা পর শিবিরে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছি। তালিকা তৈরির কাজ শুরু করছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, দুই হাজারের বেশি ঘর পুড়ে গেছে।”
কক্সবাজারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, “আগুনে প্রায় দুই হাজার ঘরবাড়ির পুড়ে যাওয়ায় ১২ হাজার মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। তাদের আমরা বিভিন্ন সেন্টার ও মজদিদে নিয়ে যাচ্ছি। আর আগুন লাগার কারণ বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।”
তিনি আরো জানান, ক্যাম্পের প্রতিটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। আগুনে এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয়।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক অতিশ চাকমা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলি জানান, “আগুনে পুড়ে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখানে ঘরের পাশাপাশি বেশ কিছু দোকানপাটও ছিল। এসব ক্যাম্পে বারবার আগুন লাগার পেছনে রহস্য রয়েছে। সে রহস্য জানা কঠিন। আর ক্যাম্পে আগুন লাগাও থামে না। “তবে আজকের একটা স্হানে দুষ্কৃতকারীরা সরাসরি আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে এরকম ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২২ মার্চ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় ধরনের আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। ওই আগুনে ১০ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছিল। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায় ১১ জন রোহিঙ্গা।




