slider

মা বাবা হারানো স্কুলছাত্রীর দায়িত্ব নিলেন জনপ্রতিনিধি

আব্দুর রাজ্জাক,ঘিওর, মানিকগঞ্জ: মা-বাবা হারানো ঘিওরের স্কুলপড়ুয়া এক মেয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন এক জনপ্রতিনিধি। উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোঃ আসাদুর রহমান মিঠু পড়াশোনা ও ভরন পোষনের দায়িত্ব নেয়ায় আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে এতিম অর্পণা দাস।

সিংজুরী ইউপি কার্যালয়ে ওই শিক্ষার্থীর হাতে গতকাল বই, খাতা, কলম, স্কুল ড্রেস, খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ সহায়তা তুলে দেন এই জনপ্রতিনিধি। এসময় মেধাবী শিক্ষার্থী অর্পণা দাস, তার চাচাত ভাই সুভাস দাস, ইউপি সদস্য ও সমাজের মুরুব্বীরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, এতিম কিশোরী অর্পণা দাসের (১২) বাড়ি সিংজুরী ইউনিয়নের ঠাকুর বৈলতলা গ্রামে। সে স্থানীয় ব্লুমিং রোজ একাডেমির সপ্তম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী। অর্পণার যখন ৬ মাস বয়স, তখন তার পিতা সমর দাস মারা যান। এরপর অনেক কষ্টে অর্পণাকে লালন পালন করেন তার মা। মা শীলা রানী দাস মারা যান গতবছর। দরিদ্র পরিবারের অর্পণার জীবন চলার পথে হঠাৎ নেমে আসে ঘোড় অন্ধকার। এরপর তার ঠাঁই হয় চাচাত ভাই সুভাস দাসের বাড়িতে। হতদরিদ্র সুভাসেরও নুনু আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারে দুমুঠো খাবার ব্যবস্থা করা কষ্টকর। তাই পরিস্থিতির শিকার হয়ে এতিম এই মেয়েটির জীবন যাপন ও পড়াশোনা বাঁধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে সেই বাড়িতে ছুটে যান চেয়ারম্যান মিঠু। খোঁজ নিয়ে অর্পণার পড়াশোনা ও ভরন পোষনের দায়িত্ব পালন আরম্ভ করেন মানবিক এই জনপ্রতিনিধি।

অর্পনার চাচাতো ভাই সুভাস দাস বলেন, চেয়ারম্যান মিঠু ভাইয়ের কাছে মানুষ যে কোনো কাজ নিয়ে গেলে খালি হাতে ফিরে আসে না। আজ তার প্রমাণ পেলাম। আমি তার প্রতি চির কৃতজ্ঞ।

অর্পণা দাস বলেন, আমি আজ থেকে নতুন একজন অভিভাবক পেলাম। আমার পড়াশোনা আর পোশাক আষাকের আর কোন চিন্তা রইলো না। এখন আমি ভাল করে পড়ালেখা করে একদিন বড় হয়ে গরীব মানুষের সেবা করবো।

ইউপি চেয়ারম্যান আবু মোঃ আসাদুর রহমান মিঠু বলেন, মেয়েটির মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। বচাচাতো ভাইয়ের বাড়িতে থাকতো। তাদের অভাবের সংসারে পড়াশোনা ও ভরন পোষন করা কষ্টকর। তাই আজ থেকে অর্পণার দায়িত্বভার আমি নিয়েছি।

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, এমন মানবিক কাজে আমি খুব খুশি। মানুষের কল্যানে কাজ করাই একজন জনপ্রতিনিধির ব্রত হওয়া উচিত। এটি অন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনুকরণীয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button