সীতাকুণ্ডে ৩ দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা শুরু আজ

হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাচীনতম ধর্মীয় উৎসব চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধামে শিবচতুর্দশী মেলা শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে। সীতাকুণ্ড পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ মন্দিরকে ঘিরে তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা চলবে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এ মেলা উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রশাসন ও মেলা কমিটির সমন্বয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে দেশ-বিদেশ থেকে দর্শনার্থীরা সীতাকুণ্ডে আসছেন। প্রতি বছরের মতো এবারো মেলাকে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধায় সীতাকুণ্ড রেলস্টেশনে থামবে সাতটি এক্সপ্রেস ট্রেন।
মেলায় ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের সাধু-সন্ন্যাসী ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে। কয়েক শ’ বছরের প্রাচীন এ মেলাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর লাখ লাখ ভক্তের আগমন ঘটে।
এদিকে মেলায় স্টল তৈরির কাজ মোটামুটি শেষ। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চন্দ্রনাথ মন্দির পর্যন্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তাসহ মেলার যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী।
মেলা কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, সীতাকুণ্ড কার্যকরী সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা প্রশাসনের সাথে বার বার মেলা কমিটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি সুন্দর-সুষ্ঠু মেলা সম্পন্ন করতে মেলা কমিটির নেতরা নিরলসভাবে কাজ করছে বলে দাবি করেন তারা।
সীতাকুণ্ড কার্যকরী সভাপতি ইউএনও শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘মেলার সকল প্রস্তুতি আমরা সম্পন্ন করেছি। তীর্থ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
আয়োজকেরা জানান, সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে চন্দ্রনাথ ধাম একটি পুণ্যতীর্থ পীঠ। আনুমানিক তিন শ’ বছর আগের ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী তিথিতে (শিবরাত্রি) চন্দ্রনাথ ধামকে ঘিরে শুরু হয় তিন দিনব্যাপী শিবচতুর্দশী মেলা।
ওই সময় থেকে এ মেলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ২০০ ফুট ওপরের পথ হেঁটে কলিযুগের মহাতীর্থখ্যাত এ চন্দ্রনাথ ধাম দর্শনের পাশাপাশি শিবরাত্রিতে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা-অর্চনা করেন।
মেলার চতুর্দশী তিথিতে সনাতনী পুণ্যার্থীরা ব্যাস কুণ্ডে স্নান-তর্পণ, গয়াকুণ্ডে পিণ্ডদান করেন। সীতাকুণ্ডে থাকা অন্তত ৫০টি মন্দির পরিক্রমা করবেন তারা। ধর্মীয় এ মেলাকে ঘিরে বসে তৈজসপত্র, পাঠ্যপুস্তক, খাবারের দোকান, খেলনা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। মেলায় আগত পুণ্যার্থীরা ধর্মীয় কাজ শেষ করে কেনাকাটা করে বাড়ি ফেরেন।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ জানান, এবারের মেলাকে ঘিরে পাঁচ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
তিনি আরো বলেন, এটি অনেক বড় মেলা। বিভিন্ন দেশ থেকে পুণ্যার্থীরা এখানে তীর্থ করতে আসেন। তারা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয় তা দেখার জন্য পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি নিয়েছে।
সূত্র : ইউএনবি



