ধলেশ্বরী নদীর ওপর ঘিওর সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ: উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুকাঙ্খিত মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর ওপর ঘিওর ব্রিজ। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আজ সোমবার এই সেতুটির উদ্বোধন করবেন।
ঘিওর সেতু নির্মান হওয়ায় লাখো মানুষের ভোগান্তি কমেছে। যাতায়াতায়ে সুবিধা হয়েছে ঘিওর, দৌলতপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকার ভোগ করবেন। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী টাংগাইল, সিরাজগঞ্জসহ দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে কৃষিপন্য আনা-নেয়া সহজতর হওয়ায় খুশি কৃষকরাও। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী এই সেতুর উদ্বোধন করবেন। এতে খুশি এই অঞ্চলের মানুষেরা।
মানিকগঞ্জের বরংগাইল-ঘিওর-দৌলতপুর হয়ে টাংগাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। ধলেশ্বরী নদী বিচ্ছিন্ন করেছিল ঘিওর, দৌলতপুরসহ পাশের জেলা টাংগাইল ও সিরাজগঞ্জকে।
নদীর এপার-ওপারে যাতায়াতের জন্য ঘিওর বাজারের কাছে একটি স্টিলের সেতু নির্মান হয় কয়েক বছর আগে। ওই সেতুটি সরু হওয়ায় যাতায়াত সহজতর ছিলনা। তাছাড়া দীর্ঘদিন যানবাহন চলাচল করায় সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।
দূর্ভোগ লাঘবে গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগ ঘিওরের কাছে প্রায় ১০৪ মিটার দৈর্ঘ্যের ঘিওর সেতুটির নির্মান কাজ শুরু করে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের মানিকগঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের জুন মাসে সেতুটির নির্মান কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সেতুর দুই পাশে ১০০০ মিটার এ্যাপ্রোস সড়কও নির্মান করা হয়। এতে নির্মাণ ব্যয় হয় ৪৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫ হাজার। ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় হয়েছে ৫৭ কোটি ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
সেতুটি নির্মাণ হওয়ার ফলে মানিকগঞ্জের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ঘিওর, দৌলতপুর ও পার্শ্ববর্তী টাংগাইল, সিরাজগঞ্জের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন শুরু হয।
আঞ্চলিক এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা জানান, এই সেতু নির্মানের কারণে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হয়েছে। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরন হওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আলাই বলেন, এই সেতু নির্মানের কারণে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্র অঞ্চলে এক মাইল ফলকের সৃষ্টি হয়েছে। খুব সহজেই যাতায়াতসহ কৃষি পন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাঠানো যাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিবাহী প্রকৌশলী মো: গাউস-উল হাসান মারুফ বলেন, এই সেতু নির্মানের ফলে দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে শিল্প, সামাজিক ও বানিজ্য ক্ষেত্রে ভুমিকা পালন করবে।




