slider

রংপুরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৯, পরিচয় মিলেছে সাত জনের

আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো: রংপুরের তারাগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন ঘটনাস্থলে এবং চারজন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। রমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. ফরহাদুজ্জামান জানান, রাত ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই জন ও ভোরে সাড়ে পাচঁ টায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। চার জনের লাশ হাসপাতালে আছে। হাসপাতালে ৫৮ জন আহত বাসযাত্রী আসেন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৩ জন। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
রবিবার ১২ টার দিকে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের তারাগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৫ জনের মৃত্যু হয়। এতে আহত হয় অর্ধশতাধিক বাসযাত্রী। তাদেরকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করে ফায়ার সার্ভিস।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব মোর্শেদ জানান, এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো চার জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে দুই জনের নাম পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহতদের মধ্যে সাত জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- তারাগঞ্জের হাড়িয়ালকুঠি এলাকার আনোয়ার হোসেন (৩৫), নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরের কু-ল এলাকার মহসিন হোসেন ( ৪২), পল্লি চিকিৎসক আনিছুর রহমান (৪৮), ধনঞ্জয় রায় (২৭) ও জীবন রহমান (২৮): সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অলিউল হাসান জুয়েল (২২): গাইবান্ধার সাদেক আলী (৬৫)। অপর দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। অন্যদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
তারাগঞ্জে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক যাত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সাব্বির আহমেদসহ নেতাকর্মীরা। এসময় তারা আহতদের রক্ত, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন ও খাবার পানি সরবরাহ করেন। সাধারণ সম্পাদক তানিম আহসান নিজেও রক্ত দান করেছেন। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম সাব্বির আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই নেতাকর্মীদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যাই। রক্ত-ওষুধ দিয়ে আমাদের সাধ্যমতো তাদের সহযোগিতা করি।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল হাসান দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনায় হতাহতদের দেখতে সোমবার সকালে হাসপাতালে যান রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। রোগীদের খোঁজখবর নিয়ে নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা প্রদান করেন। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতের কথা জানান তিনি।
সোমবার মধ্য রাতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের শলেয়াশাহ খারুভাজ সেতুর কাছে যাত্রীবাহী জোয়ানা পরিবহনের সঙ্গে ইসলাম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা বৃষ্টিতে ভিজে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button