slider

দেড় বছরেও শেষ হয়নি রাস্তার নির্মাণ কাজ

রংপুর ব্যুরো : অবিশ্বাস্য হলে-ও সত্য এমন ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের তপিকল হাট থেকে গোপীডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে ব্রেন্টের বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন একটি রাস্তার বেলায়। ০২ দশমিক ৭৮৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তাটির নির্মাণ কাজ গত ০৭ জানুয়ারী ২০২১ তারিখে উদ্বোধন করা হলেও অদ্যাবধি প্রায় দেড় বছরেও শেষ করা হয়নি এর দেড় কি.মি. পরিমাণ রাস্তার পূর্ণাঙ্গ কাজ। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। তাদের অভিযোগ, প্রায় ছয় মাস ধরে অজানা কারণে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে আছে। আবার ইতিমধ্যে নির্মাণাধীন এই রাস্তার রক্ষাকবচ হিসেবে নবনির্মিত প্রায় চারশো মিটার গাইড ওয়াল ধসে পরেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালে। যা নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
আজ সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তপিকল হাট প্রধান সড়ক হতে রাস্তাটির প্রবেশ পথে সবে মাত্র মাটি খুঁড়ে দুই ধারে উঁচু করে রাখা হয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে মাটি নরম হওয়ায় পথচারীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে।যা দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে যাওয়াও দুষ্কর।
উপজেলা প্রকৌশল সূত্রে জানা যায়, অবকাঠামোগত দক্ষতা ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্প (প্রভাতী) এর আওতায় ২০২০/২১ অর্থবছরের ১৮৫৪২৪০৬০ নং আইডি’র রাস্তাটির প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছিল ০৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৬১ হাজার ১৫৭ টাকা। কিন্তু ১৬ দশমিক ২৩ শতাংশ লেসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিনথিয়া-ঐশী এন্ড জেসমিন’ চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী ০৪ এপ্রিল ২০২১ এর মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও রাস্তার সীমানায় গাছ থাকায় তা শেষ করা যায়নি।
রাস্তাটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী’র সাথে কথা তিনি জানান, ‘দীর্ঘ ছয়মাস ধরে এই রাস্তার নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে’। ‘বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে পানি জমে রাস্তাটিতে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়’।
এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ইউনুস আলী আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘ এ রাস্তা দিয়ে অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যায়না’। ‘স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী সহ চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে’, ‘অথচ দেখার কেউ নেই’।
অটো চালক আসিক জানান, ‘রাস্তার এই দুরাবস্থার কারণে অনেক দূর ঘুরে তাদের চলাচল করতে হয়’। ‘কারণ নরম মাটি আর খানাখন্দের জন্যে প্রায় প্রতিদিনি ছোটখাটো দূর্ঘটনা ঘটে’।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘রাস্তার সীমানায় কিছু গাছ থাকায় এবং বন বিভাগের গাছ কাটার টেন্ডার না হওয়ায় এমন দেরি হচ্ছে’। আর গাইড ওয়াল ধসে পরার কারণ হিসেবে রাস্তা ঘেঁষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল খননকে দায়ী করেন এ কর্মকর্তা।
অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব এ দাবী নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে খাল খনন করেছি’, ‘তারা যদি রাস্তার সীমানা চিহ্নিত না করে ভরাট খালে গাইড ওয়াল দেয়’, ‘তাহলে তো এমনটা ঘটবেই ‘।
রাস্তার গাছ কাটা বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, বন বিভাগের গাছ না কাটার কারণে রাস্তা নির্মাণ বন্ধ আছে এমন কথা জানা নেই তার। তবে উল্লেখিত রাস্তায় বন বিভাগের ৩৮ টি গাছ কাটার অনুমোদন হয়েছে এবং রেজুলেশন আছে স্বীকার করেন তিনি।
এদিকে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং জনগুরুত্বপূর্ণ এমন একটা সমস্যা নিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণের এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন এলাকার সুধী জনেরা। তাই অনেকে টিপ্পনী কেটে বলেন, ‘ প্রকল্পের নাম যেহেতু ‘ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি প্রকল্প’ সেহেতু ভুক্তভোগীদের সহনশীলতা বৃদ্ধি করা ছাড়া উপায় নেই’।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button