
টানটান নাটকে শনিবার মধ্য রাতে পতন হয়েছে ইমরান খান সরকারের। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই জল্পনায় ভেসে উঠছে একাধিক নাম। আগামী সোমবারই পাকিস্তান পার্লামেন্ট তুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য অধিবেশনে বসছে। তার পর স্থির হবে পরবর্তী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আগামী ১১ এপ্রিল, সোমবার দুপুর ২টোর সময় হাউসের সদস্যরা আবার বৈঠকে বসবেন। তার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন হবে। পার্লামেন্ট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের আয়াজ সিদিক জানান, রোববার দুপুর ২টার মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ৩টা নাগাদ শুরু হবে ‘স্ক্রুটিনি’। প্রথমে সোমবার সকাল ১১টায় একটি অধিবেশনে বসার আহ্বান জানান সাদিক। জানান, তার পর পরই শুরু হবে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া। পরে অবশ্য পাকিস্তান পার্লামেন্টের অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডল থেকে জানানো হয় অধিবেশন হবে সোমবার দুপুর ২টায়।
কে হবেন নতুন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী, এই জল্পনায় একাধিক নাম ভেসে এলেও বাকিদের থেকে দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ দলের সভাপতি শাহবাজ শরিফ। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ ইমরান সরকারের পতনের পর জানান, বদলার রাজনীতিতে বিশ্বাসী করেন না।
নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ!
পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন শাহবাজ শরিফ। তিনি বর্তমানে পার্লামেন্টে বিরোধী জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আবার তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই। তবে ৭০ বছর বয়স্ক শাহবাজ রাজনীতিবিদের চেয়ে প্রশাসক হিসেবে বেশি কার্যকর বলে পরিচিত।
তিনি দীর্ঘ দিন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদে কাজ করেছেন। ইমরান হঠাও আন্দোলনে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাথে শাহবাজের সুসম্পর্ক রয়েছে, যা নওয়াজের সাথে ছিল না।
ধারণা করা হয়, পাকিস্তানের জেনারেলরা দেশটির বেসামরিক সরকার উৎখাতে অন্তত তিনবার প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
শাহবাজ হলেন ধনী শরিফ পরিবারের অংশ। তিনি সরাসরি ’ক্যান-ডু’ প্রশাসনিক স্টাইলের জন্য সুপরিচিত। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় তিনি বেইজিংয়ের তহবিলপুষ্ট প্রকল্পগুলোতে চীনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
তিনি গত সপ্তাহে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব। তার এই মন্তব্য ইমরান খানের মন্তব্যের বিপরীত।
উল্লেখ্য, শাহবাজ শরিফের ছেলে হামজা শাহবাজ শরিফ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।
সূত্র : আল জাজিরা

পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল?
পাকিস্তানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সব পর্যায়েই নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। অনাস্থা ভোটে হেরে ইমরান খান সরকারের পতন হয়েছে। খুব সম্ভবত পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ। তিনিই এখন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (বিএমএল-এন) সভাপতি। তিনি ইতোপূর্বে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আর নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। তিনি পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান। বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারির ছেলে এই বিলাওয়ালও ইমরান খানের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করে সরকারকে সর্বদলীয় একটি রূপ দেয়ার চেষ্টা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ৩৩ বছর বয়স্ক বিলাওয়াল জানিয়েছেন, মন্ত্রিত্বের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে দল। তিনি ইমরান খানের দল পিটিআই পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সোচ্চার ছিলেন।
তিনি বলেন, পিটিআইয়ের চার বছরের আমলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র : দি নিউজ ইন্টারন্যাশনাল

লড়াই চলবে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের শেষ মুহূর্তে মন্ত্রিসভা ও বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা গতকাল ইমরান খানের সাথে দেখা করে যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ লড়াই করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
ইমরান খানের তেহরিক-ই ইনসাফ দলের সিনেটর ফয়সাল জাভেদ খান টুইটারে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভবনে ইমরানের সাথে নিতান্তই দেখা সাক্ষাৎ, তিনি মার্জিতভাবে হেঁটে গেলেন, কখনো তিনি মাথা নিচু করবেন না।’ তিনি তার পোস্টে বলেছেন, ‘ইমরান খান পুরো জাতিকে জাগিয়ে তুলেছেন। একজন পাকিস্তানি হিসেবে গর্ববোধ করছি এবং তার মতো নেতা পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।’
ইমরান খানের মন্ত্রিসভার অর্থ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাইমুর খান ঝাগরা বলেছেন, ‘যুদ্ধে হেরে যাওয়া গুরুত্বহীন। পাকিস্তানের জন্য যুদ্ধে জেতাটাই বড় কথা যা আমরা আকাঙ্ক্ষা করি। যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ লড়াই চলবে ইনশাল্লাহ।’
সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আসাদ ওমর টুইটার পোস্টে বলেছেন, ‘গত তিন বছরের বেশি সময় আমি ইমরান খানকে ক্লান্তিহীনভাবে পাকিস্তানের উন্নতির জন্য কাজ করতে দেখেছি।’
আসাদ আরো বলেন, ‘ইমরান খানের একমাত্র লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে শক্তিশালী করা এবং পাকিস্তানের জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো। আল্লাহ তাকে জাতির অধিনায়ক হিসেবে আরো সেবা দেয়ার শক্তি দান করুন।’
ইমরান খানের সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী হামাদ আজহার বলেন, ‘সাহসী নেতা ইমরান খানের আহবানে এশার নামাজের পর পুরো পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল হবে।’
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী লিখেছেন, ‘আজকের দিন পাকিস্তানের জন্য একটি দুঃখের দিন। লুটেরারা আবার ফিরে আসছে এবং একজন ভালো মানুষকে বিদায় নিতে হলো।’
সাবের মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী শিরিন মাজারি বলেছেন, ‘আজকের দিনটি গণতন্ত্রের জন্য দুঃখজনক দিন যখন দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, মাফিয়া ডন এবং তাদের অভ্যন্তরীণ চেলা ও বিচারবিভাগীয় কু’র মাধ্যমে সংসদীয় শ্রেষ্ঠত্ব ধ্বংস করতে সফল হয়েছে মার্কিন সরকার। ফলে মার্কিনিদের প্রতি আমাদের হৃদয়ের গভীরে জায়গা করে নেয়া গোলামিপনা অব্যাহত থাকবে যা লজ্জাজনক।’
সূত্র : পার্সটুডে



