মজুরীর দাবিতে ইউপি কার্যালয় ঘেরাও: বিক্ষোভ সমাবেশ করছে শ্রমিকরা

রংপুর ব্যুরোঃ কাজ শেষ হবার ২৫ দিন অতিবাহিত হলেও মজুরী না পাওয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পীরাগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের কর্মসৃজন কর্মসূচীর শ্রমিকরা। এসময় শ্রমিকরা ইউপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। সমাবেশে আগামী রোববারের মধ্যে টাকা না পেলে উপজেলা পরিষদে গণ অনশনসহ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের ৪ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক এই বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশে স্থানীয় লোকজনও একত্বতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় শ্রমিকদের অভিযোগ, পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে একযোগে গত ১৫ জানুয়ারী কর্মসৃজন কর্মসূচীর কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ ৪০ দিন কাজ করে গত ১১ মার্চ শেষ হয়। এরপর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের শ্রমিকরা কাজে মজুরী পেলেও তালিকা জটিলতার কারণে বাদ পড়েন উপজেলার পারুল ও ছাওলা ইউনিয়নের শ্রমিকরা। কাজ শেষে ২৫ দিন পেরিয়ে গেলে তাদের মোবাইল ফোনের একাউন্ডে টাকা ঢোকেনি। শ্রমিকদের অভিযোগ, যখন আলু উত্তোলন, বোরো ধান রোপনসহ নানা কাজের ভীড় তখন আমরা এই কর্মসূচীর কাজ করেছি। শুরু থেকেই কোন মজুরী দেয়া হয়নি। আমরা অন্য কাজও করতে পারিনি। এখন রমজান মাসে আমাদের চরম দুর্দিন চলছে। টাকার বিষয়ে স্থানীয় ছাওলা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলায় খোঁজখবর করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। গতকাল বুধবার মাইকিং করে কর্মসূচীর শ্রমিকদের একত্রিত করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও করে রাখে শ্রমিকরা। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ইউপি কার্যালয়ে ছিলেন। পরে ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর নেতৃত্বে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে স্থানীয় পাওটানা বাজার প্রদক্ষিণ করে পরিষদ চত্ত্বরে সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য দেন, শ্রমিক সর্দার, রেজাউল করিম, রিপন মিয়া, জাহিদুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, এমদাদুল হক, ৭নং ওয়ার্ডের শ্রমিক নুরুজ্জামান, রনজিনা বেগম, ৩নং ওয়ার্ডের মোরশেদ আলী, ৯নং ওয়ার্ডের শাহিনুর বেগম প্রমুখ।
সমাবেশে ৬নং ওয়ার্ডের শ্রমিক আতোয়ার হোসেন বলেন, কাজ করেও আজ আমরা অসহায়। মজুরী পাচ্ছি না। রমজান মাসে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চরম বেকায়দায় আছি। হতাশায় শ্রমিকরা আজ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছে।
এ বিষয়ে ছাওলা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নাজির হোসেন বলেন, শ্রমিকদের নিজের নামে কেনা মোবাইল সিমে তাদের একাউন্ড করা হয়েছে। তাদের মোবাইলে টাকা ঢুকবে। এখানে আমাদের করার কিছু নাই। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তারা যেন দ্রুত টাকা পায়। রোববারের মধ্যে টাকা না পেলে আমরাও শ্রমিকদের সাথে একত্রতা ঘোষণা করছি।
জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, একাউন্ড জটিলতায় পারুল ও ছাওলা ইউনিয়নের টাকা পেতে একটু দেরি হচ্ছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের একাউন্ডে টাকা ঢুকে যাবে।
এ ব্যাপারে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ শামসুল আরেফীন বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে। দ্রুত এরা সমাধান হয়ে যাবে।




