slider

সিংগাইরে উচ্ছেদ আতংকে সরকারি বন্দোবস্ত পাওয়া ১১ ভূমিহীন পরিবার

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের চর ভাকুম (বস্তিবাড়ি) গ্রামে বন্দোবস্ত পাওয়া ১১ পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছেন স্থানীয় জবেদ আলী ও তার লোকজন। দফায়-দফায় চলছে নিরীহ পরিবার গুলোর ওপর হামলা। কেটে ফেলা হয়েছে তাদের লাগানো গাছপালা। উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় উচ্ছেদ আতংকে দিনাতিপাত করছেন ভূক্তভোগী পরিবার গুলো।
অভিযুক্ত জবেদ আলী সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের চর-দূর্গাপুর গ্রামের মৃত অবাই ফকিরের পুত্র।
সরেজমিন, রবিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়,২০০০ সালে সরকার তাদের চর ভাকুম মৌজায় এসএ ১৮৪ ও আরএস ১৪৯ দাগে ১ একর ৯ শতাংশ জমি ১১ ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বন্দোবস্ত দেন। তারপর থেকেই নামজারী ও জমি ভাগ করে ঘরবাড়ি তুলে বসবাস করে আসছেন তারা। বন্দোবস্ত প্রাপ্তদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাদের ওয়ারিশানরা ভোগ দখল করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই মৌজায় দিয়ারা জরিপ চলমান থাকায় জবেদ আলী ও তার লোকজন জায়গা দখলে নিতে কয়েক দফা হামলা চালায়। বন্দোবস্ত পাওয়া পরিবার গুলোকে ওই জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে জরিপে তাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। তার সাথে যোগ দিয়েছে পার্শ্ববর্তী ভাকুম গ্রামের চিহ্নিত সিকদার বাহিনীর সদস্য মান্নান সিকদার, শামসু সিকদার,কাদের সিকদার,সালাম সিকদার,আনোয়ার সিকদার, জহিরুল সিকদার, শামসুল ও মজর আলীসহ অনেকেই। এ ঘটনায় নিরীহ ওই ১১ পরিবারেরপক্ষ থেকে গত ১৬ মার্চ আব্দুস ছাত্তার বেপারী বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। ভূমিহীনদেরকে প্রাণে মেরে,নদীতে লাশ ভাসিয়ে গুম ও বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবার গুলোর পক্ষ থেকে জবেদ আলীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পৃথক আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভূমিহীনদের মধ্যে ছবুরা আক্তার, চন্দ্রবান ও ছালেহা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা ২০ বছর যাবত সরকারের কাছ থেকে জমি পেয়ে ঘর তুলে বস্তি গ্রামে বসবাস করছি। কিছুদিন ধরে জবেদ আলী ও তার লোকজন এসে আমাদের গাছপালা কেটে ফেলে। তাদের ভয়ে আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারছিনা। সব সময় লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের বাড়ির আশপাশ দিয়ে ঘুরাঘুরি করে। এছাড়া রাস্তায় বের হলেই মারধরের হুমকি দেয় তারা ।
অভিযুক্ত জবেদ আলী বলেন, এসএ ও আরএস দাগে আমারশ্বশুর গেদু সিকদারের নামে রেকর্ড আছে। খালি জায়গায় আমরা বাঁশ লাগিয়েছি। এ ছাড়া ওই জায়গার ওপর ১৪৪ ধারা জারির মামলা করেছি।
সিংগাইর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম মোল্যা বলেন, বিষয়টি ইউএনও স্যারব্যবস্থা নিবেন। তিনি পুলিশি সহযোগিতা চাইলে ভূমিহীনদের পক্ষে ন্যা য়সঙ্গত ভাবে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নিব।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপন দেবনাথ বলেন, ভূমিহীনরা অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন । কারো বসতবাড়ি দখল ও গাছপালা কেটে নেয়া ফৌজদারী অপরাধ। আমি তাদেরকে থানায় মামলা করতে বলেছি। তারপরও আমি বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button