slider

লালপুরে পদ্মা নদী থেকে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন,হুমকিতে অর্থনৈতিক জোন

নাটোর প্রতিনিধি : নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ও সরকারী অনুমতি ছাড়া নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদী থেকে ভেকু দিয়ে অবৈধ ভাবে বালু-ভারাট উত্তোলনের মহাৎসব চলছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশে পানি শূন্য পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যব¯স্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এতে করে সরকার একদিকে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে বালু-ভরাট বিক্রয় করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা।
রাতের অন্ধকারে যানবহনে করে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে হরিলুট করে বিক্রয়ের হিড়িক লেগেছে। এতে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা দেখা গেছে। পানি শূন্য পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে এভাবে বালু উত্তোলন করা হলে নাটোরের লালপুর সদরে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোন এলাকার জমি, কলনীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন প্রকল্পের প্রায় ৫০টি বাড়ী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, নদীর ভাঙ্গন রোধের বাঁধ, লালপুর সদর বাজারসহ প্রায় ৩০টি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার হুমকির মুখে পড়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাওয়ার গ্রিড কো¤পানি অব বাংলাদেশ লিঃ এর নামে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক জোন এলাকার পাশে পানি শূন্য পদ্মা থেকে ভেকু দিয়ে বালু-ভারাট উত্তোলন করতে দেখা গেছে। ফসলি জমির পাশ দিয়ে ও গ্রামের মধ্যের রাস্তা দিয়ে বালু ড্রাম ট্রাকে করে চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে গ্রামের রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে।এসব ট্রাক চলাচল করায় সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ছে অনেকেই এবং ছোট শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের আতংকের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচলের সময় বালুর ট্রাকে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা। এছাড়া বাড়ী ঘরে বালু এসে নোংরা করে দেয়। এবং ছোট শিশুদের নিয়ে আমরা আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
এবিষয়ে গোপালপুর বাজারের আলিফ ডেকরেটরের মালিক আমিনুল ইসলাম বলেন, লালপুর উপজেলা পরিষদ মোড় এলাকায় বালু ভর্তি বড় ট্রাকের চাকার নিচে পৃষ্ঠ হয়ে আমার হাত জখম হয়েছে। আলাহু রাব্বুল আলামিন আমাকে প্রাণে বাঁচিয়েছেন।
এবিষয়ে বালু ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বালু উত্তোলনের জন্য অফিসিয়াল ভাবে অনুমতি দিয়েছে এবং সার্ভেয়ার দিয়ে নকশা অনুযায়ী জায়গায় নির্ধারিন করে দিয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাম্মী আক্তার বলেন, বালু- ভরাট উত্তোলন করার কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা সুলতানা বলেন, বিষয়টি দেখতে হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button