জাতীয়শিরোনাম

শুভ জন্মদিন মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র নারী কমান্ডার আশালতা বৈদ্য

মেসবা খান : আশালতা বৈদ্য ১৯৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সৈনিক।’বঙ্গবন্ধুর বুড়ী’ নামে তিনি বিশেষ খ্যাত।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দেশের জন্য যুদ্ধ করেই তিনি ক্ষান্ত দেননি। তিনি একাধারে একজন রাজনীতিবীদ ও সমাজসেবিকা।

স্কুল জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাকালে রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে ভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী।

এ সময় তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ৮ ও ৯ নং সেক্টরের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া সীমানা সাব সেক্টরের হেমায়েত বাহিনীতে যোগ দেন। হেমায়েত বাহিনীতে ‘মহিলা বাহিনী’ নামে আলাদা একটা বাহিনী গঠন করা হয়।
এ মহিলা বাহিনীতে মোট ৩৫০ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এই বিশাল নারী মুক্তিযোদ্ধা বাহিনীর একমাত্র কমান্ডার ছিলেন আশালতা বৈদ্য। তার নেতৃত্বে ৪৫ জন সশস্ত্র নারী মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

শেখ মুজিবুর রমানের হাত ধরে রাজনীতিতে যোগদানের পর তিনি বিভিন্ন সময় ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেয়েও ‘বঙ্গবন্ধু’কে হত্যার সময়টা দুর্বিসহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় সে সময়ে তাকেও জাতীয় নেতাদের সঙ্গে অসংখ্য মামলায় আসামি করা হয়। পরে রোকেয়া হল থেকে তৎকালীন সেনাবাহিনী তাকে প্রেফতার করে। ঐ সময় সামরিক বাহিনীর হাতে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
ছাত্র জীবন শেষ করে ‘সূর্যমূখী’ নামক একটি সমবায় সেবামূলক সংস্থা দিয়ে তার সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডের শুরু হয়। বর্তমানে তিনি এ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক। দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় তার অফিস।

আশালতা বৈদ্য তার বৈচিত্র্যময় জীবনের সেবামূলক কাজের জন্য ২০০৫ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বাছাই কমিটিতে মনোয়ন পেয়েছিলেন।

এছাড়া তিনি শ্রেষ্ঠ মহিলা সমবায় প্রেসিডেন্ট স্বর্নপদক, রোকেয়া পদক, প্রশিকা মুক্তিযোদ্ধা পদকসহ অনেক পুরস্কার লাভ করেন।
পরিতাপের বিষয় হলো, এতোকিছুর পড়েও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি আজও কোনো রাষ্ট্রীয় উপাধি পাননি।
এ সর্ম্পকে আমার সাথে কথপোকথণে আশালতা বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় উপাধি আমি আশা করি না। সরকারের কাছে আর কোনোকিছু প্রত্যাশাও করি না। কারণ সরকারের সময় কই আমাকে উপাধিতে ভূষিত করার? কোনো উপাধি পাবার জন্য যুদ্ধ করিনি, দেশপ্রেমের কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম।’

চাপা অভিমান লক্ষ্য করেছিলাম সেদিন তার স্বপ্নভরা দুই চোখে। আর কথা না বাড়িয়ে চা জলখাবার খেয়ে হন হন করে দ্রুত বেরিয়ে পড়ি তার অফিস থেকে গোধূলির শেষ লগ্নে ।

আজ ১২ ফেব্রুয়ারি তার জন্মদিন। ১৯৫৬ সালের এই দিনে তিনি পৃথিবীর আলো দেখেন।
পতাকা পরিবারের পক্ষে “বঙ্গবন্ধুর বুড়ীর” জন্য রইল শুভ কামনা, আজকের এই বিশেষ দিনটিতে। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন প্রিয় দিদি। প্রিয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button