আমাদের ভালো একটা সমাধান প্রয়োজন

কাজল ঘোষ
কিন্তু চোখ খোলা রেখে কিছু করা দরকার। যখন কোনো কিছুকে বৈধতা দেয়ার প্রসঙ্গ আসে তখন অসম্পাদিত কিছু কাজের বিষয় বুঝতে হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা যেসব তথ্য উপস্থাপন করেন তার ওপর ভর করে বড় রকমের স্বস্তি রাখা যায় না। এক্ষেত্রে আমাদের ভালো একটা সমাধান প্রয়োজন। আমাদের মনে নিতে হবে যে, গাঁজার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা তেমন জানি না। কারণ গাঁজাকে এক নম্বর মাদক হিসাবে গণ্য করা হয় আর চিকিৎসক এবং বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে খুব কমই গবেষণা করেছেন। এর যেকোনো ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কেও আমাদের জানা দরকার। এর জন্য আমাদের আরো গবেষণা করা দরকার।
জানা দরকার বিজ্ঞান এ সম্পর্কে কি বলে এবং সে মতে আমাদের অগ্রসর হওয়া উচিত।
এটা জনস্বাস্থ্য সংকটের ক্ষেত্রে যে অবস্থা তার চেয়ে জননিরাপত্তা সংকটের দিক থেকে মাদকাসক্তের বিষয়টিকে দেখা বন্ধ করা উচিত। মানুষ যখন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তখন এর সমাপ্তি ঘটে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায়। আমাদের লক্ষ্য তাদেরকে সহায়তা করা। আমরা সবাই যখন মেনে নিচ্ছি মাদকাসক্তি একটি রোগ। মানুষ কখনো চায় না এবং কখনো প্রত্যাশাও করে না এমনভাবে জীবনকে ধ্বংস করে দেয় এই মাদক। এটা উপলব্ধির সময় যে একে অবমূল্যায়ণ করার কোনো সুযোগ নেই তা আইনি দিক থেকেও। কেউ যখন মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে তখন তার অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে এর সঙ্গে যখন ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া যুক্ত হয়। এ সময় তাদের প্রয়োজন হয় চিকিৎসার। আমাদের উচিত এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে লড়াই করা।
এমনকি মানুষ যখন অপরাধ করেই বসে এবং এর পরিণতিতে কারাগারে যেতে হয়। যে ধারণায় তাদেরকে ক্ষতিকর নয় অথবা তাদের দ্বিতীয় সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে মনে করা হয় সেটাকে আমাদের প্রত্যাখ্যান করা উচিত। আমাদের বাধ্যতামূলক বেশবিছু বই আছে এর বেশির ভাগেই বর্ণবাদের ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েক দশকের যে প্রচেষ্টা তার এখান থেকে আমাদের উদ্ধার করতে হয়। এটা এতোটা কঠিন যে তা অমানবিক।
খুশির খবর যে এটা এর একটি প্রক্রিয়া আমরা শুরু করতে পেরেছি। ব্যাক অন ট্র্যাক কর্মসূচি শুরু করার এক দশক পরে তেত্রিশটি রাজ্যে নতুন করে শাস্তি এবং সংশোধনের নীতি গৃহীত হয়। এটা করা হয় কারাবন্দির বিকল্প হিসাবে এবং বর্ণবাদ কমিয়ে আনার জন্য। ২০১০ সাল থেকে তেইশটি রাজ্যে কারাবন্দির সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে এখনো অনেক কাজ করতে হবে।
কারা ফটকের অন্যপাশে কি ঘটে সে বিষয়েও আমাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত। কারাবন্দিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে নারীর সংখ্যা। তার বেশির ভাগই মা। এদের প্রচুর পরিমাণে রয়েছেন যারা সহিংসতা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এ বিষয়টিতে দৃষ্টি দেয়া হয়নি অথবা অচ্ছুত রয়েছে। অনেক কারাগারে মৌলিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বা প্রজনন স্বাস্থ্য সুবিধা নেই। আপনি যখন এ লেখা পড়ছেন, তখন অন্তঃসত্ত্বা অনেক নারীকে জেলখানায় পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয়েছে। কোনো কোনো রাজ্যে সন্তান প্রসবের সময়ও অনেক নারীকে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। আমি বেশকিছু কারাগার সফর করেছি। যখন কারাবন্দি নারীরা বাথরুমে যান অথবা গোসলখানায় যান তখন তাদের দেখাশুনা করে পুরুষ প্রহরীরা। এ সময় যৌন সহিংসতার ঝুঁকির কাহিনী আমাকে বলেছেন তারা। এসব বিষয়ে সমাধানের জন্য ২০১৭ সালে অন্যদের সঙ্গে আমি একটি বিল উত্থাপন করি। এজন্য আমাকে গর্বিত মনে হচ্ছে। এদেশে আমরা এসব আলোচনা খুব কমই করি। আমাদের এ নিয়ে আলোচনা করা উচিত।
খুব কমই, কয়েক বছরে গুরুত্বপূর্ণ যা কিছু অগ্রগতি হয়েছে তা নিয়ে এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। বর্তমান প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাড়িয়েছে। কারাবন্দিদের পুনর্বাসনের ওপর জোর দিয়েছে। পুলিশ বিভাগে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে। আর এসবই হচ্ছে ওবামা প্রশাসনের অধীনে। ওবামার আইন মন্ত্রণালয় এবং সুনির্দিষ্ট পুলিশ বিভাগগুলোর মধ্যে এমন কিছু চুক্তি আছে যেগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকারকে লঙ্ঘন করে- সেগুলো তারা এখন কাঁটাছেড়ার চেষ্টা করছেন। এসব ইস্যুতে আমাদের পেছন দিকে যাবার সুযোগ নেই। যখন আমরা অগ্রগতির দিকে যাত্রা শুরু করেছি। আমাদেরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ সমাধা করতে হবে। ন্যায়বিচারের দাবি এটি।
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি
‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে।




