আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

শিশুরা আমার দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকতো

কাজল ঘোষ
আমি রাস্তার দিকে ফিরে আসি এবং সুপার মার্কেটের কাছাকাছি গাড়ি চালাচ্ছিলাম। এটা ছিল শনিবার সকাল। সমানতালে ভিড় ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার গলিতে। পার্কিং লটে আমাকে গাড়ি নিয়ে টানা দাঁড়িয়ে থাকতে হলো এবং গাড়ি উন্মুক্ত স্থানে ধাক্কা খেলো। সেখানেই আয়রন বোর্ড, টেপ এবং প্রচারণার ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় অদ্ভুত লাগছিল।
তুমি যদি চিন্তা করো যে অফিসের দৌড়ে তুমি সৌকর্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাও তবে তোমার দেখা উচিত ছিল আমি কি অদ্ভুতভাবে দাঁড়িয়েছিলাম। আমার মনে আছে শিশুরা আমার দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে থাকতো এবং মায়েরা তাদের তাড়িয়ে নিয়ে যেতো।
আমি তাদেরকে দোষ দেই না। আমি হয়তোবা বেশি করে ফেলেছিলাম। যদি না আমার মাথা ঠিক না থাকে।
কিন্তু আয়রন বোর্ড দাঁড়িয়ে কথা বলার জন্য ভালো একটি ডেস্ক হিসেবে কাজ করে। আমি একদম সুপার মার্কেটের প্রবেশপথে বোর্ড নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম যেখানে গাড়িগুলো ছিল ঠিক তার পাশেই। হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড, ‘কমালা হ্যারিস, ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বর।’ যখন প্রচারণা শুরু হলো তখন আমার বন্ধু আন্দ্রিয়া ডিউ স্টিল এবং আমি আমার প্রচারণার জন্য একটি লিফলেট নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম এতে সাদাকালো অক্ষরে আমার জীবনবৃত্তান্ত এবং আমার অবস্থা সম্পর্কে লেখা ছিল। পরবর্তীতে আন্দ্রিয়া অ্যামার্য আমেরিকায় যোগ দেই। এই সংগঠনটি যেসব নারীরা ডেমোক্রেট দলের হয়ে নির্বাচন করছে দেশজুড়ে তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে। আমি আমার বোর্ড এবং বোর্ডের পাশে কয়েক গুচ্ছ ‘ফ্লাইয়ার’ এবং স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য একটি বোর্ড রাখতাম। তারপর আমি কাজ করতাম। দোকানে আসা ক্রেতারা তাদের গাড়ির স্বয়ংক্রিয় দরজা খুলে চোখে পড়া সূর্যের আলো আটকাবার চেষ্টা করতো, এরপরই চোখে পড়তো আমার প্ল্যাকার্ডটি। যাতে লেখা ছিল, ‘হাই, আই অ্যাম কমালা হ্যারিস। আই অ্যাম রানিং ফর ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। অ্যান্ড আই হোপ টু হ্যাভ ইউর সাপোর্ট।’ বাস্তবতা হচ্ছে আমি চাচ্ছিলাম তারা যেনো আমার নামটি মনে রাখে। সান ফ্র্যান্সিসকোর কত মানুষ আমাকে চেনে প্রচারণার শুরুতেই এমন একটি জরিপ চালিয়েছিলাম। এতে দেখা গিয়েছিল ফলাফল হচ্ছে ৬ ভাগ। অর্থাৎ প্রতি একশ’ জনে আমাকে চিনে মাত্র ছয়জন। আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম আমার মাকেই হয়তো এ নামে চেনে।
তবে এটি সহজ হবে তা আমি ভাবিনি। আমি জানতাম আমাকে নিজেকে পরিচিত করে তুলতে এবং আমার মতাদর্শকে পরিচিত করে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কারণ এখন অনেক মানুষ আছে যাদের কোনো ধারণাই নেই আমি কে?
প্রথম যারা প্রার্থী হন তারা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন এবং এর কারণও রয়েছে। যেই মানুষগুলো রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে কিংবা বাসের জন্য অপেক্ষা করছে কিংবা ব্যবসায়িক কাজে কোথাও যাচ্ছে তাদেরকে দাঁড় করিয়ে কথা বলা শুরু করা খুবই কঠিন কাজ। মানুষ কখনো বিনয়ী আচরণ করতো কখনো করতো না। কখনো বা তারা আমাকে তিরস্কার করতো। যেমনটি খাবার খাওয়ার সময় ‘টেলি মার্কেটার’ কল দিলে বিরক্তবোধ করতো। তবে বেশির ভাগ সময় আমি তাদের সঙ্গে আলাপ জমাতাম যারা উদার এবং যারা আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। অনেকেই আছে যারা এমন সব ইস্যু নিয়ে আলাপ জমাতো যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। কেউ কেউ তাদের পরিবার এবং সম্প্রদায় নিয়ে আসা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে কথা বলতো। এতো বছর পরে এসেও আমি এখনো সেই মানুষগুলোর সঙ্গে আলাপ জমাই।
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি
‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে।
সুত্র : মানবজমিন

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button