আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যার ২০ বছর

অনিন্দ্য তুহিন : নওগাঁয় আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন, সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পৃথক স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনের দাবির মধ্য দিযে বহুল আলোচিত আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যাকান্ডের ২০তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
সোমবার সকালে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে সরেন সমাধির নিকটে ১ মিনিট নিরবতা পালন, তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, পদযাত্রা ও আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে নানা কর্মসুচি পালন করা হয়েছে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সিপিবি. বাসদ, ছাত্র পরিষদ, ছাত্র ইউনিযন ও পরিবারের পক্ষ থেকে এসব কমৃসুচি পালন করা হয়।
স্থানীয় কদমতলীর মোড় থেকে পদযাত্রা নিয়ে সমাধি প্রাংগনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাধিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি পক্ষে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সিপিপি নওগাঁ জেলা সভাপতি মহাসিন রেজা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা এবং বাসদের জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদীন
মুকুল, পঞ্চানন বর্মা, সকালই পাহান, সোনামণি সরেন সহরা, রেবেকা সরেনের নেতৃত্বে জাতীয় আদিবাসী ইউনিয়ন, রবীন্দ্রনাথ সরেন এর নেতৃত্বে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক মায়ের শাহরিয়ার রেজা, জেলা কমিটির সেক্রেটারি
শামীম আহসানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। শেষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা সিপিবির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন রেজা, বাসদের জেলা সমন্বয়ক জযনাল আবেদীন মুকুল,আদিবাসী নেতা রবীন্দ্রনাথ সরেন, সবিন মুন্ডা, সুবাস হেমরম, মঙ্গল কিসকু, নিহত সরেনের বোন রেবেকা সরেন, কালীপদ সরকার, দেবাসীস রায ও ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মায়ের শাহরিয়ার রেজা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আলফ্রেড সরেনের হত্যাকারীরা থেমে নেই। তাদের হুমকি ধামকি এখনো অব্যাহত আছে। ভীমপুর আদিবাসীদের নিয়ন্ত্রনে থাকা ৬৩ বিঘা জমির মধ্যে ইতিমধ্যে তারা ৩৩ বিঘা জমি জবরদখল করে নিয়েছে। বাকী ৩০ বিঘা জমিও জবর দখলের পায়তারা তারা করছে। শুধু নওগাঁর ভীমপুর নয সারা দেশেই আদিবাসীদের উপর অত্যাচর নির্যাতন চলছে। নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একে একে তাদের জমিগুলো দখল করে নেওয়া হচ্ছে। তাই আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ ও পৃথক স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠনসহ আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
গত ২০০০ সালের ১৮ আগষ্ট দিনের বেলায় ভীমপুর আদিবাসী পল্লীতে হাতেম- গদাই গংদের সন্ত্রাসীদের হামলায় আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন নৃসংশভাবে খুন হন। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসীরা ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে আদিবাসী পল্লীর ১১টি পরিবারের বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করে। ওই সময় তাদের হামলায় আদিবাসী মহিলা-শিশুসহ প্রায় ৩০ জন মারাত্মক আহত হয়।




