Uncategorized

জুরাছড়িতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ্য তিন সেতু ৬ মাসেও সংস্কার হয়নি

সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি : রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার থানা সংলগ্ন লুলাংছড়ি, বালুখালী সংযোগ রাস্তা। এর উপর লম্বা একটি সেতু। উপজেলায় শ্রেষ্ঠ লম্বা হবে এই সেতু। বৃদ্ধ, শিশু, নারী পুরুষ, কৃষক, দিনমজুর বিশ হাজার মানুষ নিরাপদে পারাপার হবে। এই স্বপ্ন উপজেলাবাসীর। এই স্বপ্ন পুরন হতে না হতে গত জুন মাসে প্রবল পাহাড়ী ঢলে নির্মাণাধীন বক্স কালভাট দুমড়ে-মুচড়ে যায়। শুধু এটি নয় – লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নির্মিত জুরাছড়ি ইউনিয়নের লুলাংছড়ি ও সাপছড়ি, রাঙাচান হেডম্যান পাড়া সংলগ্ন সেতুর একই অবস্থা। এর পর থেকে প্রশাসনের সেতু নির্মাণ কিংবা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।
তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দাবী করছে চলতি অর্থ বছরে ক্ষতিগ্রস্থ্য কালভাটটি ভেঙ্গে সম্পর্ন্য ফুট ব্রীজ নির্মাণ করা হবে বলে এষ্টেট ইন্সপেক্টর মোঃ খোরশেদ আলম মুঠো ফোনে জানিয়েছেন।
সেতু গুলো জরুরী ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ঠিঠি দিলেও সংস্থারের এখনো বরাদ্দ মেলেনি।

এসব ব্রীজ দিয়ে জুরাছড়ি, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নের দশ হাজারের অধিক মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়ত ও নানা কাজে ব্রীজের উপর দিয়ে পারাপার হতে হয়। অন্যদিকে লুলাংছড়ি ও সাপছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই শতাধীক এবং ভুবন জয় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও পানছড়ি ভুবন জয় সরকারী মডেল বিদ্যালয়ে থানা সংলগ্ন ব্রীজ দিয়ে চার শতাধীক শিক্ষার্থী আসতে হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রীজের পূর্ব পার্শ্বের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে একদল শিক্ষার্থী। আর কেউ কেউ বাজারে বিক্রির জন্য তরিতরকারি মাথায় করে ভাঙা সাকো বেয়ে পাড়ি দিচ্ছে। কথা হয় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিপা চাকমা, জয় কর্মকারের সাঙ্গে। তারা বলেন, প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে ব্রীজ পার হতে হয়-যদি পড়ে যায়। স্কুলে আর যাওয়া হবে না। কিছু দিন আগে দু‘শিক্ষার্থী পড়েও গিয়েছে-যদিও কোন কিছু হয়নি।

বালুখালীর যুবক বিকাশ চাকমা জানান,প্রবল পাহাড়ী ঢলে নির্মানাধীন ব্রীজ মুচড়ে দিলে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে যাতায়তের সুবিধার্থে এলাকায় সেচ্চা শ্রমে এই বাঁশে সাকোটি নির্মান করি। এ পযন্ত সরকারী ভাবে সংস্কার কিংবা নির্মাণের কোন উদ্যোগ নজরে পড়েনি।
স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য বীরো চাকমা জানান, বালুখালীর যুবকরা যদিও সেচ্চায় সাকোটি নির্মাণ করেছে-কিন্ত ক্রমান্যয়ে সাকোটি বেয়ে পারাপারের ঝুকি বাড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, সেতুগুলো সংস্কার অথবা আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা বলেন, সেতুগুলো দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন ভাবে নির্মাণ করা জরুরী। উপজেলা পরিষদ ইতি মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্ত এখনো পর্যন্ত সেতুটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের কোন উদ্যোগ বাব রাদ্দ দেওয়া হয়নি। এসব সেতুগুলো সংস্কার করার মতো অর্থ উপজেলা পরিষদের নেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button