
মোঃ নাজিম আলী, রাঙামাটি প্রতিনিধি: মানবাধিকার মানে শুধু অধিকার চাওয়া নয়, অধিকার রক্ষার দায়িত্বও নেওয়া। এভাবেই অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের রাঙামাটি জেলা কমিটির ২০২৫–২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
উদ্বোধন করেন ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া। সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. নাছির উদ্দীন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন জাহিদুল ইসলাম মুন্না ও সাদিয়া আক্তার মুনমুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক।
সকাল থেকেই জেলা শহরে নানা প্রান্ত থেকে ফাউন্ডেশনের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা এসে মিলনায়তন ভরে তোলেন। সবার মুখে একটাই প্রতিজ্ঞা মানবাধিকারের জন্য কাজ করব।
এখানে পাহাড় ও সমতলের মানুষের ভিন্ন ভিন্ন জীবনযাপন রয়েছে। এই বৈচিত্র্যের ভেতর থেকেই মানবাধিকার রক্ষার কাজ করতে হবে। নতুন নেতৃত্বকে আমি অভিনন্দন জানাই।
কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়া বলেন,এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো। রাঙামাটির মতো পার্বত্য এলাকায় যেখানে উন্নয়ন ও সুযোগসুবিধার বৈষম্য বেশি, সেখানে কাজ করার দায়িত্বও বেশি।
সভাপতি মো.নাছির উদ্দীন তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা শুধু অধিকার রক্ষার দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকব না। শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী-শিশু সুরক্ষা, পরিবেশ রক্ষা এসব ক্ষেত্রেও কাজ করব।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অনন্য ভূগোল। তবে এখানকার মানুষ বহুদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্য, অধিকার বঞ্চনা ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলে মানবাধিকার ইস্যুটি সব সময় আলোচনায় থাকে।
সামাজিক সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্থানীয় সংগঠনগুলো যদি সক্রিয় হয়, তবে পাহাড়ি–সমতলের সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে সচেতন হবে।
২০২৫–২৭ মেয়াদের নবনির্বাচিত কমিটি জানায়, তাদের প্রধান লক্ষ্য হবে। স্থানীয় মানুষের অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি,
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা,
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা কার্যক্রম চালানো,
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই বছরে রাঙামাটিতে মানবাধিকার সুরক্ষা কার্যক্রম আরও সুসংহত হবে এবং সাধারণ মানুষও এই আন্দোলনে যুক্ত হবে।
শপথ পাঠ শেষে মিলনায়তনে করতালির ঝড় ওঠে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের হাতে ফুল তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত সকলে একসঙ্গে প্রতিজ্ঞা করেন মানবাধিকারের পক্ষে, বৈষম্যের বিপক্ষে কাজ করে যাবেন।
মানবাধিকার কর্মী নাছিমা বেগম, যিনি অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন, বললেন, “আমরা চাই এই সংগঠন কেবল সভা-সেমিনারেই সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠে কাজ করুক। দরিদ্র মানুষের ঘরে গিয়ে তাদের কথা শুনুক।
অভিষেক অনুষ্ঠান শেষ হলেও, ফাউন্ডেশনের সদস্যদের চোখেমুখে ছিল ভবিষ্যৎ কাজের প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধের ঝিলিক।




