আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

৮১ বছর বয়সে মনে হলো আমি ‘ভার্জিন’

ভালবেসে ‘টয়বয়’ মোহাম্মদ আহমেদ ইব্রাহিমকে (৩৬) বিয়ে করে এখন বৃটিশ ‘গ্রান্ডমাদার’ আইরিস জোনসের (৮১) চোখে শুধুই কান্না। বিপুল অংকের অর্থ খরচ করে এ পর্যন্ত তিনি তিনবার মিশরে গিয়েছেন তার ওই প্রেমিকের সঙ্গে সাক্ষাত করতে। কিন্তু এখন আর পেরে উঠছেন না। তার সঙ্গে আইনিভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। সেই স্বামীকে ছেড়ে তিনি এখন আর থাকতে পারছেন না। এই স্বামীর সঙ্গে প্রথম শারীরিক সম্পর্কে তিনি বলেছেন, সেদিন মনে হয়েছিল আমি আবার যেন একজন ভার্জিন হয়ে গেছি। করোনা ভাইরাসের কারণে পরিস্থিতি এখন আর তাকে স্বামীর সঙ্গে মেশা করছে না। ওদিকে মোহাম্মদ আহমেদ ইব্রাহিম যে তার প্রিয়তমার কাছে ছুটে যাবেন সেই উপায়ও নেই।
কারণ তিনি ভিসা পাচ্ছেন না। ভিসা পেলে উড়ে এসে তার প্রণয়ীকে দেখে যেতে পারতেন। ফলে আইরিস জোনসের এখন একাকী জীবন। তাকে দেখাশোনার কেউ নেই। তিনি শুধু কাঁদেন আর কাঁদেন। এই যুগলকে নিয়ে এরই মধ্যে অনেক রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে পশ্চিমা মিডিয়ায়। মানবজমিনও রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ তাদেরকে নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে- আইরিস জোনসের চেয়ে ৪৫ বছরের ছোট মোহাম্মদ আহমেদ ইব্রাহিম। আইরিস জোনস বর্তমানে ইংল্যান্ডের সমারসেটে নিজের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভুগছেন। তা ছাড়া তার স্বামীকে বৃটেনে নেয়ার চেষ্টা করছেন। ইব্রাহিমও চেষ্টা করছেন ভিসা পাওয়ার জন্য। তিনি ভিসা পেলেই বৃটেনে উড়ে গিয়ে তার সঙ্গ দিতে পারেন। ইব্রাহিমের প্রতি তার আকুতি, নিজের আইনি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে ভিসা পাওয়ার গতি ত্বরান্তিত করার জন্য। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই তাকে ভিসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আইরিস জোনস একজন পেনশনার। তিনি বলেন, কোনো কোনো দিন আমার ভাল লাগে। আবার বেশির ভাগ দিনই সারাটা সময় কেঁদে কাটে। আমি যাকে খুব ভালবাসি, এমন একজনের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছি। এটা আমার জন্য খুবই বেদনার। আমার এদিক থেকে তো অনেক সময় নেই। এ বিষয়টা তার আইনজীবী জানেন। এরই মধ্যে তিনবার স্বামীর কাছে গিয়েছি আমি। কিন্তু তাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরতে পারিনি। ইব্রাহিমকে তার আইনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার গতি বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। জানি না কেন বিলম্ব হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি জটিল।
উল্লেখ্য, অসম এই যুগলের মধ্যে সাক্ষাত, জানাজানি হয় ফেসবুকে। সেখানে তারা একটি গ্রুপে নাস্তিকতা নিয়ে আলোচনাকারী একটি গ্রুপে যোগ দিয়ে আড্ডা দেয়ার সময় একজন আরেকজনের প্রেমে পড়ে যান। এরপর মিশরের রাজধানী কায়রোতে ছোট্ট একটি অনুষ্ঠানে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এ বিষয়ে আইরিস জোনস বলেন, প্রচুর ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়। এসব ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হয়। কায়রোতে দীর্ঘ একই লাইনে পুরুষ ও নারীরা এসব ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেন। অনলাইনে কিছুই পাওয়া যায় না। ইব্রাহিমকেও অনেক কাগজপত্র, ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বৃটেনে যাওয়ার জন্য তাকে প্রচুর ডকুমেন্ট পূরণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে আমি মাথার যন্ত্রণায় ভুগছি। হতাশা তো আছেই। চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছি। তাদেরকে বলছি- আমার স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে। নানা রকম স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে আমার স্বামীকে আমার পাশে বৃটেনে প্রয়োজন। আশা করি, এতে তারা তাদের আইন কিছুটা নমনীয় করবে এবং আমার স্বামীকে আমার কাছে আসতে দেবে।
গত বছর মিশরে ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাত করার পর তিনি ইংল্যান্ড ফিরে গিয়েছেন। এ সময় তিনি ইব্রাহিমের মায়ের (৭০) সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন। তখন তিনি ইব্রাহিম এবং পুত্রবধু আইরিস জোনকে আশীর্বাদ করেছেন। আইরিস জোনস তার সাবেক স্বামীকে তালাক দিয়েছেন ৪০ বছরেরও বেশি আগে। তার জীবনে নতুন আসা ইব্রাহিম সম্পর্কে, তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের গোপন কথা শেয়ার করেছেন খোলামেলা। প্রথম শারীরিক সম্পর্ক ছিল অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল আমি যেন আবার একজন কুমারী হয়ে গিয়েছি। এটা খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। এটা ছিল ভীষণ ভালবাসা আর রোমান্টিকতা।
তবে তার এই সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ছেলে স্টিভ (৫৪) ও ড্যারেন (৫৩)। কিন্তু কোনোকিছুতেই বাধা মানেন নি আইরিস জোনস। তিনি বলেছেন, ইব্রাহিম তার কোনো অর্থ খরচ করেননি। তার পাসপোর্ট ব্যবহার করেননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button